দেবজিৎ মুখার্জি: ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ দিয়েছিলেন বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়। বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক হইচই পড়ে যায় জাতীয় রাজনীতিতে। তখন শোনা যাচ্ছিল যে অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে। কিন্তু বৃহস্পতিবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোটা বিষয়টি তিনি অস্বীকার করলেন। তাঁর সাফ কথা, অসুস্থতার কারণে তিনি সেই সিদ্ধান্ত নেননি।
বৃহস্পতিবার বিজেপি শাসিত রাজস্থানের চুরুতে এক জনসভায় এসে হাজির হয়েছিলেন জগদীপ ধানকড়। সেখানে তিনি মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন এবং বিরোধী শিবিরের তরফ থেকে যে দাবি করা হয়েছিল, তা উড়িয়ে দেন। তিনি জানেন যে পদত্যাগের সময় তিনি কখনোই দাবি করেননি যে তিনি অসুস্থ। এর সঙ্গে তিনি এটাও জানান যে তাঁর বক্তব্য ছিল যে তিনি তাঁর স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেন।
জগদীপ ধানকড় বলেন, “কথায় আছে স্বাস্থ্যই সম্পদ! আমি কখনো অবহেলা করিনি আমার স্বাস্থ্যের।” এরপরই তিনি মূল বিষয়টিতে আসেন। প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি বলেন, “তবে যখন পদত্যাগ করার কথা ঘোষণা করি, তখন আমি কোথাও বলিনি যে আমি অসুস্থ।” তাঁর সংযোজন, “আমার বক্তব্য ছিল যে আমি প্রাধান্য দিই আমার স্বাস্থ্যকে এবং তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত সকলের জন্যই।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২১শে জুলাই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন জগদীপ ধানকড়। তাতে তিনি জানিয়েছিলেন যে স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার জন্য তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই সময়ে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায় গোটা দেশে। এখানেই শেষ নয়, তাঁকে আর দেখাই যায়নি। এরপর বিরোধীদের তরফ থেকে দাবি করা হয় যে বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারের বিরোধিতা এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গেরুয়া শিবিরের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে এবং সেই কারণেই তিনি রাতারাতি ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
কংগ্রেস সাংসদ, তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “অবশ্যই বড় কোনো কারণ রয়েছে তাঁর পদত্যাগ করার পেছনে। আপনাদের অনেকে হয়তো তা জানেন বা জানেন না। তবে এর পেছনে যে বড় কোনো কারণ রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা প্রকাশ্যে আসা দরকার যে কেন পদত্যাগ করার পর তিনি সকলের নজরের বাইরে হয়ে গেলেন। উনি দেশের উপরাষ্ট্রপতি। অথচ ওনাকে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে এবং সামনে থেকে এসে কথা বলতে পারছেন না। একটা সময়ে উনি রাজ্যসভায় তারস্বরে কথা বলতেন, কিন্তু এখন নীরব।” ঘটনাটি থিতিয়ে যাওয়ার এতদিন পর এবার জগদীপ ধানকড় জনসম্মুখে এলেন।



By














