নিউজ ডেস্ক: একাধিক ইস্যু ঘিরে উত্তাল ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি। এর মধ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দলের নজরে আনতে বিস্ফোরক পোস্ট করেন বিজেপির উত্তর কলকাতার প্রাক্তন সম্পাদক চন্দ্রশেখর সিং, ওরফে সঞ্জয় সিং। কয়েকদিন আগে তাঁর ফেসবুক থেকে তিনি একটি পোস্ট করেন, যাতে বলা হয়েছে, “অত্যাচার চালাচ্ছে একদল রাতারাতি তৈরি হওয়া নব বিজেপি।” এখানেই শেষ নয়, তিনি দলের পুরনো কর্মীদের সম্মানের অনুরোধও করেছেন।
বিজেপি নেতার এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি এবং এরপরই উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন। পোস্ট প্রসঙ্গে সঞ্জয় সিং বলেছেন, “বহু তৃণমূল কর্মী ৪ তারিখ ফল ঘোষণার পর আবির মেখে রাতারাতি বিজেপি হয়ে গেল। আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে দলে তাঁদের জায়গা হবে না। বিজেপিতে কোনও জায়গা নেই সুবিধাবাদীদের।”
তাঁর সংযোজন, “তবে পরে আমরা এমন একাধিক ঘটনা দেখলাম রাজ্য ও জাতীয় স্তরে, যা প্রভাব ফেলেছে মানুষের মনে। কিছু বিধায়ক ও সাংসদ যোগাযোগ করেন দলের উচ্চ নেতৃত্বদের সঙ্গে। দেখা গেল শমীক দা যা বলেছেন, তার উল্টোটা হল। কিন্তু পরে আমার মনে হল, ছোট ছোট জিনিস বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগ করতে হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনে হয়েছে যে তাদের দলে নিলে সম্ভব হবে বৃহত্তর স্বার্থ পূরণ করা।” পোস্ট প্রসঙ্গ তিনি আরও বলেন, “যাঁরা সুবিধাবাদী বা দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজকর্মে যুক্ত, তাঁরা যেন স্থান না পায় দলে। আমি নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই সেই পোস্ট করেছিলাম।”
উল্লেখ্য, অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল দুই দফায় এবং ফলপ্রকাশ হয়েছিল মে মাসের ৪ তারিখে। ২০৮টি আসন নিজেদের নামে করে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের ঝুলিতে যায় ৮০টি আসন। শূন্যের গণ্ডি পেরোয়ে সিপিএম ও কংগ্রেস। অন্যদিকে, নিজেদের গড় ভাঙর ধরে রাখতে সফল হয় আইএসএফ। হুমায়ুন কবিরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টিও প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমে খাতা খুলেছে।
যদিও এবারের নির্বাচনে এসআইআরের কারণে বহু ভোটার ভোট দিতে পারেননি, যা ঘিরে জোর আলোচনা অব্যাহত রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এছাড়া দেখা গিয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। প্রথম থেকেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোনরকম খামতি রাখা হয়নি।



By










