দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র! শনিবার এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা গেল ৯৯টি বিধানসভা আসনে নেই কোনও নতুন ভোটার। অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত কেউ পূরণ করেননি ‘ফর্ম-৬’। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অন্দরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, অস্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে কমিশনের কাছেও।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ায় বদলে যায় রাজ্য রাজনীতির চিত্র। শনিবার অসম্পূর্ণ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়, যা ঘিরে বর্তমানে রাজনৈতিক তরজা অন্য মাত্রায় পৌছে গেছে। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি ও কমিশনকে কটাক্ষ করে চলেছে। অন্যদিকে বিজেপি আক্রমণ করে যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা ঘাসফুল শিবিরকে। তার উপর রয়েছে নাম বাদ পড়ায় ভোটারদের নালিশ। সবমিলিয়ে, এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা রাজ্যে।
কিন্তু তাতে ধরা পড়ে এক চক্ষু চড়কগাছ করে দেওয়ার মত চিত্র। ৯৯টি আসনে নেই কোনও নতুন ভোটার। বিশেষ করে নদীয়া জেলার অবস্থা চিন্তাজনক। করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, শান্তিপুর, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদহ, কল্যাণী, হরিণঘাটা এবং বাদুড়িয়া, এই ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একটাও নতুন ভোটার নেই। যেমনি বিষয়টি অজস্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এই মুহূর্তে, তেমনি অস্বস্তিতে ফেলেছে কমিশনকেও।
এই ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেছেন, “এতবার করে আবেদন করা হয় আমাদের তরফ থেকে। কিন্তু তারপরও যদি কেউ পূরণ না করেন ফর্ম-৬, তাহলে আমাদেরই বা কি করার থাকতে পারে?” পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে কি কারণে এমনটা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঠিকঠাক প্রচার না হওয়া নাকি মানুষের মধ্যে ভোট না দেওয়ার আগ্রহ? কী এর নেপথ্যে, তা জানা প্রয়োজন। এবার দেখার বিষয় যে কি কারণ বেরিয়ে আসে এর থেকে।



By










