দেবজিৎ মুখার্জি, হাওড়া: শনিবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটে। সিপিএমের হাত ছেড়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। তা নিয়ে মুখ খুললেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি সাফ জানালেন যে এই ব্যাপারে বলার মতো মানসিকতা তাঁর নেই। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গে বামেদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মীনাক্ষী।
সম্প্রতি, সিপিএমের কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমান এবং এরপর লাগাতার আক্রমণ করেন সিপিএমকে। তাঁর সঙ্গে দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিল। বিমান বসুর তরফ থেকে চেষ্টা করা হয় তাঁর মান ভাঙার। কিন্তু তিনি তাতে সফল হননি। সেলিমের তরফ থেকেও এই বিষয়ে অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই সবকিছুর মাঝে শোনা যাচ্ছিল যে তিনি হয়তো শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন।
অবশেষে সেটাই হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক। তাঁর যোগদান করার সময়ে আলিমুদ্দিন থেকে তাঁকে বহিষ্কারের চিঠি আসে। ঘাসফুল পরিবারের সদস্য হয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেন। প্রতীকের বক্তব্য, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই করছেন বাংলার গৌরব নিয়ে। এই সময়ে বিজেপিকে আটকানোর জন্য তৃণমূলকে দরকার। তৃণমূল কংগ্রেস সবচেয়ে বড় শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। সেই কারণে আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছি।”
এই ব্যাপারে শনিবার কোন্নগর মাস্টার পাড়ায় সিপিএমের গণ অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন মীনাক্ষী। তিনি বলেন, “একসাথে মার খেয়েছি পুলিশের ব্যারিকেডের এপারে দাঁড়িয়ে। তাই লড়াইটা এখন রাজনীতির। রাজ্যে চলমান রাজনীতির বদলের বিরুদ্ধে বহু ছেলেমেয়ে পথে-ঘাটে দাঁড়িয়ে লড়াই করছে জান-প্রাণ দিয়ে। আমাদের এগুলো অনেক বেশি সম্পদ। এই মুহূর্তে প্রতীক উরকে নিয়ে বলার মতো অতটা মানসিকতা জোগাড় করতে আমি এখনো পারিনি।”
মীনাক্ষীর সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গে যারা দুর্নীতিবাজ, গুন্ডাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তারা আমাদের সম্পদ। আর যারা এখনো তাদের সঙ্গে রয়েছেন, তাদের ওখান থেকে বের করে আমরা আমাদের কাছে আনতে পারিনি। এটাও আমাদের লড়াই। বাংলাকে বাঁচানো নিয়ে রাজনীতিটা। ব্যক্তি প্রতীক উরকে নিয়েই আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি এখনো এই মুহূর্তে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে লড়াই করেছি চাকরির দাবিতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, নিয়োগের দাবিতে, লুটের বিরুদ্ধে। বহু কর্মী মার খেয়েছে, প্রতীক উরও একজন কর্মী ছিল।” তাঁর পরিষ্কার কথা, লড়াই চলবে। বাংলাকে বাঁচানোর জন্য বহু কর্মী লড়াই করছে ও লাল ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছে এবং আগামীদিনে আরো নেবে।



By










