দেবজিৎ মুখার্জি: মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাতের জেরে গোটা বিশ্বজুড়ে যে চরম সংকট দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে, তা বলাই বাহুল্য। এমন পরিস্থিতিতে নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টা কি আদৌ সত্যি? এবার সেই ব্যাপারে মুখ খোলা হলো কেন্দ্রের তরফ থেকে। কী বক্তব্য তাদের? কেন্দ্রের তরফ থেকে আবারো পরিষ্কার করে দেওয়া হলো যে তারা যেখানে সস্তায় তেল পাবে, সেখান থেকেই কিনবে দেশের স্বার্থে। পাশাপাশি এও পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে কোন এফেক্ট পরবে না সোর্স বদলালেও।
শনিবার সকালে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) তরফ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয় সোশ্যাল মিডিয়া এবং এই ব্যাপারে জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারতের উপর কোন প্রভাব পড়বে না যতই হরমুজ দেশগুলিতে উত্তেজনা চলুক। কারণ যথেষ্ট পরিমাণ তেল ভারতের কাছে রয়েছে। তাছাড়া আর কারোর উপর নির্ভর না করে ভারত অনেকটা বাড়িয়েছে নিজেদের তেল আমদানির দিকটা। আগে যেটা ২৭টি দেশের মধ্যে আটকে ছিল, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০। সেখান থেকেই তেল কেনা হয় ভারতের তরফ থেকে যেখানে সস্তায় পাওয়া যায়।”
রুশ তেল নিয়ে পিআইবি বলেছে, “রাশিয়া থেকে তেলের আমদানি আগামী ৩০ দিনে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। অর্থাৎ হরমুজ ক্ষেত্রের বাইরে থেকে আসবে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ।” সরকারি স্টেটমেন্ট অনুসারে, “বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আশা কাঁচা তেল সহজেই পরিণত করতে পারে জ্বালানি তেলে দেশের উন্নত রিফাইনারি বা তেল পরিশোধন ব্যবস্থা। অর্থাৎ সোর্স পাল্টালেও সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে কোন এফেক্ট পরবে না। অর্থাৎ অন্য কারোর উপর আর নির্ভর করে থাকতে হবে না ভারতকে।”
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল মোদি সরকারকে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য কি করে আমেরিকা অনুমতি দিতে পারে ভারতকে? সেই প্রশ্ন উঠছিল চারিদিকে। তবে সত্যিই কি এমনটা বলেছে ওয়াশিংটন? এবার তার জবাব দিল মোদি সরকার। সেক্ষেত্রে দেখার যে আগে কি হয়।



By














