দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কংগ্রেসের তরফ থেকে। কী সেই সিদ্ধান্ত? এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আর হাত শিবির জোটে যাবে না বামেদের সঙ্গে। এবারের ভোটে একাই লড়াই করবে তারা। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পড়েছে জোড় শোরগোল। যদিও এমনটা যে এবার হতে পারে, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে বৈঠক হয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের এবং তারপরই একলা চলো পথের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিনের বৈঠকে ছিলেন দলের সাংসদ, তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাহুল গান্ধী, সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক, তথা প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক, গুলাম আহমেদ মীর। বৈঠকের পরই মীরের তরফ থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হয় যে এবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়াই করবে কংগ্রেস।
মীর বলেন, “আমাদের দলের কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল নষ্ট হয়ে যায় সিপিএমের সাথে জোট করলে আর সেই কারণেই নেতৃত্বের তরফ থেকে একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের কর্মী-সমর্থকরা চান যে আমরা সমস্ত আসনে একাই লড়ি।” প্রসঙ্গত, এআইসিসিতে গুলাম আহমেদ মীর জোট রাজনীতির বিষয়ে একজন এক্সপার্ট হিসেবে পরিচিত। উপত্যকায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে জোট করে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শুধু তাই নয়, ঝাড়খন্ডে হেমন্ত সরেনের দলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করে গেরুয়া শিবিরকে দ্বিতীয়বার পরাস্ত করতে তিনি সফলও হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই জোট নিয়ে বামেদের সঙ্গে মতপার্থক্য চলছিল কংগ্রেসের। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের তরফ থেকে একাধিকবার আক্রমণ করা হয় হাত শিবিরকে। কিন্তু তারাও পাল্টা দেয় বামেদের এবং পরিষ্কার করে দেয় যে তাদের সিদ্ধান্ত তারা নিজে নেবে এবং ঠিক সময়ে নেবে। অবশেষে জোট করবে কি করবে না, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল কংগ্রেস। এবার দেখার বিষয় যে একা লড়াই করে নিজেদের ঝুলিতে কটা আসন তুলতে সফল হয় কিনা হাত শিবির। শেষ পর্যন্ত কি হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে বঙ্গবাসীর।



By










