দেবজিৎ মুখার্জি: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক বলে দাবি করলেও বিরোধীরা এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টি, সকলেই এই বাজেটের নিন্দা করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে কংগ্রেসের নামও। দলের সাংসদ, তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সকলেই অসমর্থন জানিয়েছেন।
এক্স হ্যান্ডেল থেকে রাগা লিখেছেন, “দেশের যুবসমাজ বেকার, ধারাবাহিকভাবে নিচের দিকে যাচ্ছে ম্যানুফেকচারিং। যাঁরা বিনিয়োগকারী, তাঁরা তুলে নিচ্ছেন টাকা। লাগাতার কমছে মানুষের কেনার ক্ষমতা। শোচনীয় আমাদের দেশের কৃষকদের অবস্থা। আগামীদিনে যে বিপদগুলি আসতে চলেছে, সেগুলি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকার এমন একটা সময়ে যে বাজেট পেশ করেছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে এই সমস্ত সমস্যা শোধরাতে চায় না মোদি সরকার। এই মুহূর্তে দেশের আসল সমস্যাগুলি কি, সেটা জানেনা এই সরকার।”
অন্যদিকে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এই বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন “এই সরকার যে নতুন কিছু ভাববে, সেই শক্তি নেই তাদের। যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, তা ব্যর্থ দেশের আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সমস্যাগুলির সমাধানের ক্ষেত্রে। কোন পরিকল্পনা নেই দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। অভাব রয়েছে নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি বা রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির। নীতিগতভাবে যে সমস্ত ত্রুটি রয়েছে, তা ঢাকার জন্য কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
প্রসঙ্গত, এদিন প্রায় দেড় ঘন্টা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং একাধিক ঘোষণা করেন। কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বা কোন জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে, এই সংক্রান্ত যাবতীয় সবকিছু তিনি তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নিজের বক্তৃতা শেষ করার পর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং এর বিশাল প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন এই বাজেট কিভাবে একটি বড় ভূমিকা পালন করবে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ক্ষেত্রে বা বিকাশিত ভারতকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে। যদিও বিরোধীরা বাজেটকে অর্থহীন বলে দাবি করেছে। পাশাপাশি, বাজেট ঘোষণার পরেই সেনসেক্সের সূচক ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিফটিও পড়ে যায় ৪৮১ পয়েন্ট। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য সেনসেক্স ৭০০ পয়েন্ট ফিরে পায়।



By













