দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: কদিন আগে সুজাপুরের বিএলও মহাম্মদ আলম প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর পরিবার ও বিএলও অধিকার কমিটির বক্তব্য, তাঁর সহ ১৪০ জনের নাম ফিরে এসেছিল তাঁর কাছে এবং তাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিএলও অধিকার মঞ্চের সদস্যরা। শুক্রবার ফের তাঁরা কলকাতায় সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। বলা ভালো, রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে হাজির হন বিএলও অধিকার মঞ্চের সদস্যরা। ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করতেই শুরু হয় অশান্তি। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ানো আন্দোলনকারীরা এবং তখন একজন আহত হন। বিএলও অধিকার মঞ্চের এক সদস্যের বক্তব্য, “দাবি জানাতে এসেছি আমাদের। তাতে অত্যাচার করা হলো আমাদের উপর।” পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “সহকর্মীকে সুস্থ করি আপাতত। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বসে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের অবস্থা স্পর্শকাতর হয়ে গিয়েছিল। প্রতিনিয়ত যে ঘটনা ঘটে চলেছে রাজ্যে, তাতে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন যে এই বিষয়টির জল অনেকদূর গড়াতে পারে। শুধু ভোটের আগে নয়, ভোটের পরেও এগুলি অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, এসআইআর ইস্যুতে শুরু থেকেই আওয়াজ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য নেতারা, সকলেই সরব হয়েছেন এই ব্যাপারে। রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর রাজনৈতিক তরজা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। প্রতিনিয়ত তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে আক্রমণ করে চলেছে।
বিজেপির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি এসআইআরের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিয়ে। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। ভোটের আগে এসআইআরকে কেন্দ্র করে নতুন করে কিছু ঘটে কিনা, তার উপর রয়েছে গোটা রাজ্যের নজর।



By










