দেবজিৎ মুখার্জি, জলপাইগুড়ি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ায় বদলে যায় রাজ্য রাজনীতির চিত্র। শনিবার অসম্পূর্ণ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়, যা ঘিরে বর্তমানে রাজনৈতিক তরজা অন্য মাত্রায় পৌছে গেছে। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি ও কমিশনকে কটাক্ষ করে চলেছে। অন্যদিকে বিজেপি আক্রমণ করে যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা ঘাসফুল শিবিরকে। তার উপর রয়েছে নাম বাদ পড়ায় ভোটারদের নালিশ। সবমিলিয়ে, এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা রাজ্যে।
তার মাঝে দেখা যায় যে খোদ জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নাম বাদ পড়েছে। তিনি আলিপুরদুয়ার পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এসআইআরের কাজে তিনি এইআরওর ভূমিকা পালন করছেন। তবে তিনিই বাদ পড়েছেন তালিকা থেকে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা ময়নাগুড়িতে। অনেকেই তা জানতে পেরে চমকে গিয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি প্রসেনজিৎ কুণ্ডু।
তবে অবস্থান জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থপ্রতিম ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি চমকে দেওয়ার মতোই। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন প্রশাসনিক পদে থাকার পর বিডিওর নাম বাদ যাওয়া চমকে দেওয়ার মতো বিষয়। এত অসঙ্গতির কারণ কমিশনের তাড়াহুড়ো করে কাজ করা। বিডিওর সাথে যদি এমনটা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি হয়েছে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।”
প্রসঙ্গত, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এসআইআরের অসম্পূর্ণ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বাদ পড়েছে মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম। খসড়া তালিকাতে বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ এবং চূড়ান্ত তালিকাতে বাদ পড়ে আরো প্রায় ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার।
এছাড়া বিচারাধীন অবস্থায় প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম। নতুন ভোটার যুক্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬। এই পর্যন্ত রাজ্যের টোটাল ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। একে অপরকে আক্রমণ করে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










