দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড ইস্যুতে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যজুড়ে চলছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শনিবার এই বিষয়ে আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। যদিও সরকারের তরফ থেকে প্রতিনিয়ত এর জবাব দেওয়া হচ্ছে বিরোধীদের এবং একাধিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তবুও যেন কটাক্ষ আর থামছে না।
এমন পরিস্থিতিতে এবার এই ঘটনায় এল নতুন মোড়। কী সেই মোড়? বারুইপুরের পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমারের নেতৃত্বে গঠন করা হলো এক বিশেষ তদন্তকারী দল। কাদের রাখা হয়েছে দলে? পুলিশ সুপার ছাড়া সিটে রয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের দুই অ্যাডিশনাল এসপি, নরেন্দ্রপুর থানার আইসি এবং ঘটনার তদন্তকারী অফিসার রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে মারফত জানা গিয়েছে যে ঘটনা এতটাই স্পর্শকাতর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আরো জানা গিয়েছে যে পুলিশও তাড়াতাড়ি চার্জশিট চাইছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার ব্যারাকপুরের কর্মীসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড ঘটনা নিয়ে আক্রমণ করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। তিনি বলেন, “২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এই ঘটনায়। নিখোঁজ ২৭ জন। সব বাংলার নাগরিক। কেন এক্ষেত্রে করা হচ্ছে ভোটবাক্সের রাজনীতি?” এরপর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধীদের আড়ালের চেষ্টা অভিযোগ তোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনায় রাজ্য সরকার আড়াল করার চেষ্টা করছে অপরাধীদের। যদি ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার, তাহলে অপরাধীদের জেলে ঢোকানো হবে।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির কায়দা একটা ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করা। লাশ খোঁজে শকুনের মতো। মৃত্যুর রাজনীতি করে ওরা। লাশের রাজনীতি করে। যদি কোথাও কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে সেটা যাতে আর না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।” মোমো সংস্থার মালিকের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফরের ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নীরব মোদি বা মেহুল চোকসির মতো ব্যবসায়ীরা পালিয়েছেন ১৫-২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে। তাঁরা বিদেশ সফর করেছেন মোদির সঙ্গে।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে এই পর্ব শেষ হয়। বিরোধীদের জবাব দিতে পারে কিনা তৃণমূল কংগ্রেস, সেটাই এখন নজরে রাখার বিষয়।



By










