দেবজিৎ মুখার্জি: এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের না ফেরার দেশে চলে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনার জেরে। ঘটনাকে নিয়ে এখনো বেশ শোকাহত মারাঠা গড়ের রাজনৈতিক মহল। অনেকেই মনে করছেন যে এটি একটি বিশাল বড় ক্ষতি মহারাষ্ট্রের রাজনীতির জন্য। তাঁর প্রয়াণের পর সেই দায়িত্ব গিয়েছে এখন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের কাঁধে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন যে অজিত পাওয়ার তারাদের দেশে চলে গেলেও এনসিপির দুই শিবিরকে এক হতে কেউ রুখতে পারবেন না। কিন্তু শনিবার শরদ পাওয়ারের মুখে শোনা গেল দুঃখের কথা। সুনেত্রা পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার আগে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন যে ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে দুই এনসিপির এক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে, তা ভেস্তে যায়। তাঁর বক্তব্য, তাঁর শিবির রাজি থাকলেও অজিতের শিবিরের তরফ থেকে কোনও আগ্রহ দেখানো হচ্ছে না।
সাংবাদিক বৈঠকে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে গত চার মাস ধরে দুই শিবিরের এক হওয়ার কথা চলছিল। কিন্তু তার আগে বিমান দুর্ঘটনার ফলে প্রাণ হারান অজিত পাওয়ার এবং সেই আলোচনা বন্ধ হয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে তা নিয়ে কোন কথা হবেও কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। শরদ পাওয়ারের বক্তব্য, “এই দুর্ঘটনা হওয়ায় দুই দলের মধ্যে আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের ইচ্ছা ছিল যে এক হয়ে যাক দুই শিবির।”
প্রসঙ্গত, গত বুধবার একটি সভায় যোগ দিতে মুম্বাই থেকে বারামতির দিকে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার নিজস্ব বিমান করে। গন্তব্যস্থানে পৌঁছে ঘটে দুর্ঘটনা। এমারজেন্সি ল্যান্ডিং করতে গিয়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি। গুরুতর আহত অজিতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাকে ঘিরে নেমে আসে শোকের ছায়া। দেশের সকল রাজনীতিবিদ বেশ দুঃখ পেয়েছেন এই ঘটনায়। তবে অনেকে আবার এর মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখছিলেন। যদিও কাকা শরদ পাওয়ার দাবি করেছেন যে এটি একটি দুর্ঘটনা এবং এর পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে এই সংক্রান্ত বিস্ফোরক কিছু বেরিয়ে আসে কিনা।



By













