দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না এবং মাইক্রো অবজারভারদের দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট শেয়ার করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এই ব্যাপারে আরো একাধিক বার্তা দেন ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি। এমনকি, আইনি পদক্ষেপেরও হুশিয়ারি দেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সঠিক পদ্ধতিতে নির্দেশ না দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের দ্বারা নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জন্মশংসাপত্র নিয়ে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন স্পেশাল রোল অবজার্ভার সি মুরুগান। তিনি এই অভিযোগও তোলেন যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে এর দ্বারা। তিনি লিখেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাইক্রো অবজারভারদের ভূমিকা নিয়েও। তাঁরা শুধু অ্যাসিস্ট করতে পারবেন এবং তথ্য জোগাড় ও অবজার্ভ করবেন। কোনও প্রশাসনিক বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। কিন্তু তা সত্বেও কমিশন চেষ্টা করছে তাঁদের দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কিসের নির্দেশে বা কার অনুমতিতে জন্মশংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নির্দোষ জারি করা হচ্ছে মাইক্রো অবজারভারদের দ্বারা? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরো দাবি করেন যে সুপ্রিম কোর্ট বারংবার স্বচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের উপর জোর দিলেও বাস্তবে মানা হচ্ছে না সেই নীতি। তাঁর আরো অভিযোগ, জেলাভিত্তিক রোল অবজার্ভার নিয়োগ করা হলেও তাঁদের লগইন সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হচ্ছে কলকাতার এক কেন্দ্রীয় স্থান থেকে। শুধু তাই নয়, তাঁর অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করার পাশাপাশি ভোটার তালিকায় প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
অভিষেকের বক্তব্য, “স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হলে দেখা যাবে যে সংশ্লিষ্ট রোল অবজারভারের আসল অবস্থানের সঙ্গে লগইন ডিভাইসের টাওয়ার লোকেশন মিলবে না।” তিনি আরো দাবি করেন যে মানুষের বিশ্বাস থেকে আসে নির্বাচন কমিশনের বৈধতা, রাজনৈতিক আনুগত্য থেকে নয়।” ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি দিল্লির জমিদারদের নির্দেশে কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেই স্ক্রিনশটগুলি তুলে ধরেছেন, তার উপরে লেখা ইএমআরও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যা দেখে মনে করা হচ্ছে যে তা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মাইক্রো অবজারভারদের গ্রুপ এবং তাতে নির্দেশ দিচ্ছেন সি মুরুগন।
জানা গিয়েছে, ঘাসফুল শিবিরের ৫ জনের প্রতিনিধি দলের তরফ থেকে আজ কলকাতায় অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাওয়া হবে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এটা জানা যায়নি যে তাঁরা সেখানে পৌঁছেছেন কিনা।



By










