দেবজিৎ মুখার্জি: অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান দুর্নীতি ঘটনায় এবার নতুন মোড়। বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) তরফ থেকে পেশ করা রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা হলো এফআইআর (FIR)। একজন নয়, দুজন নয়, এফআইআর দায়ের হল ৮ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়ের করা হয় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের সদস্য শ্রী কৃষ্ণমোহনের তরফ থেকে, যার ভিত্তিতে পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে রাম জন্মভূমি কোতোয়ালি থানায়।
এফআইআর দায়ের হয়েছে টিনু যাদব, অনুকল্প মিশ্র সহ ৮ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, পুলিশের তরফ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে আরও একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এবং মামলা করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ এবং ৩(৫)এতে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ‘রাম রাজ্য’ উত্তরপ্রদেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অযোধ্যা রাম মন্দিরে চুরির ঘটনায়। ঘটনার তদন্ত করছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। গত মঙ্গলবার তাদের তরফ থেকে সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে প্রাথমিক রিপোর্ট। তাতে দাবি করা হয়েছে যে খামতি রয়েছে মন্দির ব্যবস্থাপনার প্রায় প্রত্যেকটি স্তরে এবং সবেতেই দরকার পরিবর্তন। এখানেই শেষ নয়, চুরি ঠেকানোর ক্ষেত্রে তাদের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে একাধিক পরামর্শও। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বেনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে মন্দির ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করারও। যদিও এফআইআর দায়ের বিষয়টি চূড়ান্ত তদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে।
সেই রিপোর্ট জনসম্মুখে আসতেই গেরুয়া শিবিরকে বিঁধলো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের জাতীয় সভাপতি অলোক কুমারের বক্তব্য, “যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বেনিয়মের। দ্রুত এফআইআর দায়ের করতে হবে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের দ্বারা রোজ শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে হবে এই মামলার। ব্যবস্থা করতে হবে দোষীদের কড়া শাস্তির।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়। জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা উত্তরপ্রদেশ সহ জাতীয় রাজনৈতিক মহল।



By












