দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলার মাটিতে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় এই মুহূর্তে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বঙ্গ সহ সমগ্র জাতীয় রাজনীতিতে। একদিকে গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে বিষয়টির জোর প্রশংসা করা হচ্ছে। আবার, অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী দলগুলি মনে করছে যে কারচুপি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে, অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসকে, ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
এই বিষয়ে নিজের অবস্থান জানালেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। সান ফ্রান্সিসকোতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেছেন যে এসআইআরের কারণেই বাংলার মাটিতে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। তিনি বলেন, “৯১ লক্ষ নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আপিল করেছেন ৩৪ লক্ষ মানুষ। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা বৈধ ভোটার। নিয়ম অনুসারে প্রত্যেকটি মামলার বিচার পৃথকভাবে করার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েকশোটি মামলার ভোটের আগে বিচার হয়েছে। চলবে বাকিদের বিচার প্রক্রিয়া। ফলে ভোট দিতে পারেননি এমন বহু মানুষই।”
বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাত শিবিরের অন্যতম প্রভাবশালী সাংসদের বক্তব্য, “বঙ্গে দেখুন, ঠিক ৩০ লক্ষ ভোট ব্যবধানেই বিজেপি জিতেছে। আপনারাই বলুন, এটা কি গণতন্ত্র?” তবে শশী থারুরের তরফ থেকে এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে ভুয়ো ও ডুপ্লিকেট ভোটার বাদ দেওয়া নিয়ে তাঁর আপত্তি নই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By













