দেবজিৎ মুখার্জি: এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ। এই সংঘাত ব্যাপক তোলপাড় ফেলেছে গোটা বিশ্বে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, এই সংঘাত থামাতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বহু দেশের তরফ থেকে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, ততই উগ্র থেকে উগ্রতর হয়ে উঠছে এই যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা এই মুহূর্তে বেশ শোচনীয়।
এমন পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধের বিশ্রী আঁচ পড়লো ভারতবর্ষে। দাম বাড়লো গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের। শনিবার যে সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের। অন্যদিকে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটাই যে চলতি মাসের প্রথম দিনেই ৩১ টাকা বেড়েছিল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম। কদিনের মাথায়, তা আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় যে চাপ বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
নয়া দাম অনুযায়ী কলকাতায় ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম ৮৭৯ টাকা থেকে হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। অন্যদিকে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হলো ১ হাজার ৯৯০ টাকা। অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার টাকার কাছাকাছি হলো দাম। একসাথে দুই গ্যাসের দাম বাড়া যে এই মুহূর্তে এক বড় চিন্তার কারণ, তা না বললেও বোঝা যায়।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফ থেকে পুরনো এক নিয়ম আবার চালু করা হয়েছে। বাড়িতে ব্যবহার করার রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে শুধু একটি এলপিজি সিলিন্ডার কেনা যাবে ২১ দিনের মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বাড়ার মূল কারণ বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতির এবং যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে জ্বালানি জোগার ঘিরে। ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার মধ্যে চলতি যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ, যেখান দিয়ে একটা ভালো পরিমাণের ক্রুড অয়েল পরিবহন হয়। কেন্দ্রের তরফ থেকে যদিও জানানো হয়েছে যে আপাতত জ্বালানির জোগাড় রয়েছে দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য। পাশাপাশি, এই ব্যাপারে রাশিয়াও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে ভারতকে রুশ তেল কেনার। এবার দেখার যে আগে কি হয়।



By













