নিউজ ডেস্ক: ইরানের সদ্য প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুতে অবশেষে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। তবে এরপরই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করেন তিনি। কী বক্তব্য তাঁর? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন যে দুজনেই পশ্চিম এশিয়ায় এই মুহূর্তে চলতে থাকা অবস্থায় নিয়ে চিন্তিত এবং একসঙ্গে কাজ করবেন মধ্যপ্রাচ্যে শীঘ্র শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তোলপাড় চলছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে। গোটা বিশ্ব চিন্তায় পড়েছে এই ভয়ঙ্কর সংঘাতের কারণে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতবর্ষে বিরোধীদের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল যে কেন কেন্দ্র সদ্য প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে নিশ্চুপ? তবে এবার এই ব্যাপারে মিলল প্রতিক্রিয়া। পদক্ষেপ করা হলো মোদি সরকারের তরফ থেকে। বৃহস্পতিবার বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি করলেন ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। এখানেই শেষ নয়, তিনি দিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে যান এবং শোকপুস্তিকায় সই পর্যন্ত করেন।
তবে এর কয়েকঘণ্টা পরেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বললেন মোদি। বিষয়টি নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে তিনি তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “পশ্চিম এশিয়ায় চলতি পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দুজনেই চিন্তিত। আলোচনা হয়েছে সেই ব্যাপারে। সেই অঞ্চলের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা উচিত আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে। আমরা একসঙ্গে কাজ করবো যাতে মধ্যপ্রাচ্যের শীঘ্রই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরে।” বলে রাখা ভালো, প্রথম থেকেই দুই দেশই নিরপেক্ষ থেকে সংঘাত থামানোর আর্জি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলির ধ্বংস করার লক্ষ্যে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় ইসরাইল ও আমেরিকা। ইসরাইলের তরফ থেকে এটিকে নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন রোরিং লায়ন এবং আমেরিকা নাম দিয়েছে অপারেশন এপিক ফিউরি। এই হামলার জেরে প্রাণ হারান দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ আরো অনেকে।
তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে ইরানের তরফ থেকেও। তারাও ইসরাইল ও মিডিল ইস্টে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে। এখনো হামলা চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকেও শত্রুতা পরিণত করে ফেলছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তরফ থেকে এই ব্যাপারে অবস্থান জানানো হয়েছে। তবে এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে আর কি হয়।



By













