দেবজিৎ মুখার্জি: এআই সম্মেলনে যুব কংগ্রেস কর্মীদের টি-শার্ট খুলে বিক্ষোভ ঘটনায় এবার জামিন পেলেন যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয়ভানু চিব। শুক্রবার গভীর রাতে পাতিয়ালা হাউস আদালতের ডিউটি ম্যাজিস্ট্রেট বংশিকা মেহতার রেসিডেন্সে শুনানি হয় এবং ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে মঞ্জুর করা হয় তাঁর জামিন। তবে এই মুহূর্তে তাঁকে তাঁর পাসপোর্ট ও যাবতীয় ইলেকট্রনিক গ্যাজ়েট কোর্টে জমা রাখতে হবে।
চার দিনের হেফাজত শেষ হওয়ার পর যুব কংগ্রেসের সভাপতিকে বিচারকের সামনে উপস্থিত করানো হয় রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ। পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে আরো কয়েকদিন কাস্টডিতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। বিচারকের বক্তব্য, এক্ষেত্রে পুলিশ পর্যাপ্ত যুক্তি দেখাতে পারেনি। তার ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর করা হয় উদয়ভানু চিবের।
যুব কংগ্রেসের সভাপতির আইনজীবী মহম্মদ সুলেমান ও রূপেশ সিং ভাদোরিয়া জানিয়েছেন যে শুনানির কথা আচমকা তাঁদের জানানো হয় মাঝরাতে। দেড়টা থেকে শুনানি শুরু হয়েছিল বিচারকের রেসিডেন্সে। পুলিশের বক্তব্য, উদয়ভানু চিব ঘটনাস্থলে না থাকলেও পুরো বিষয়টি পিছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং মদত জুগিয়েছেন। এবার দেখার বিষয় যে এই ঘটনায় আগামীদিনে আর কি কি হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যখন এআই সম্মেলন চলছিল এবং সংস্থার প্রধানদের বক্তব্য চলাকালীন হইচই হয় কক্ষের বাইরে। তা শুনে উপস্থিত সকলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং দেখেন যে কিছু ব্যক্তি জামা খুলে হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে। তাঁরা হাত শিবির, অর্থাৎ কংগ্রেসের কর্মী। ঘটনায় একের পর এক গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উদয়ভানু চিবও। বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে রাহুল গান্ধী একটি পোস্ট করেছিলেন নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে।
তিনি লিখেছিলেন, “সমগ্র ভারতবর্ষের সামনে সত্যিটা তুলে ধরেছেন যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় এবং বাকিরা। স্বৈরাচারী মানসিকতা ও কাপুরুষত্বের প্রমাণ কমরেডদের এই গ্রেফতারি।” তাঁর সংযোজন, “আমাদের রক্তে রয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। এটি সকল ভারতবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি গর্বিত যুব কংগ্রেসে আমার বব্বর শের কমরেডদের জন্য। ভারতবর্ষের স্বার্থে তাঁরা বিনা ভয়ে আওয়াজ তুলেছেন কম্প্রোমাইজ করা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।” এবার জামিন পান যুব কংগ্রেসের সভাপতি। সেক্ষেত্রে দেখার আগে কি হয়।



By














