দেবজিৎ মুখার্জি: প্রায় মাসখানেক হতে চলল মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর। কিন্তু মহারাষ্ট্র রাজনীতি যে এখনো তাঁকে ভুলে উঠতে পারেনি, তা বলাই বাহুল্য। তিনি মারা যাওয়ার পর লিডারহীন হয়ে পড়েছিল তাঁর দল এনসিপি। এরপর থেকেই চারিদিকে প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল যে এবার দলের হাল ধরবেন কে? অবশেষে সেই দায়িত্ব গেল তাঁর স্ত্রী, তথা মহারাষ্ট্রের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী, সুনেত্রা পাওয়ারের কাঁধে।
বৃহস্পতিবার দলের জাতীয় সভাপতি হিসেবে সুনেত্রা পাওয়ারের নামকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। খবরটি প্রথমে জনসম্মুখে আনেন দলের বর্ষীয়ান নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল। এরপর নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে এই বিষয়ে বার্তা দেন সুনেত্রা পাওয়ার। তিনি দাবি করেন যে রাজ্যের উন্নতির প্রতি অজিত পাওয়ারের মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি এবং রাজ্যবাসীদের প্রতি তাঁর কঠোর পরিশ্রম তাঁকে পথ দেখাবে সারাজীবন।
নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে সুনেত্রা পাওয়ার লেখেন, “মহারাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রতি অজিত পাওয়ারের মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি এবং রাজ্যবাসীদের প্রতি তাঁর কঠোর পরিশ্রম আমাকে পথ দেখাবে সারাজীবন।” এর সঙ্গে তিনি জানান যে অজিত পাওয়ার যেই কাজগুলি সমাপ্ত করতে পারেননি, তা তিনি সমাপ্ত করবেন। তাঁর সংযোজন, “শেষ করতে চাই আমি তাঁর অসমাপ্ত কাজ। প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই কৃষক, মহিলা, যুব এবং সাধারণ মানুষের।”
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি একটি সভায় যোগ দিতে মুম্বাই থেকে বারামতির দিকে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার নিজস্ব বিমান করে। গন্তব্যস্থানে পৌঁছে ঘটে দুর্ঘটনা। এমারজেন্সি ল্যান্ডিং করতে গিয়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি। গুরুতর আহত অজিতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনাকে ঘিরে নেমে আসে শোকের ছায়া। দেশের সকল রাজনীতিবিদ বেশ দুঃখ পেয়েছেন এই ঘটনায়। তবে অনেকে আবার এর মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখছিলেন। যদিও কাকা শরদ পাওয়ার দাবি করেছেন যে এটি একটি দুর্ঘটনা এবং এর পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফরণবিস ও অজিত পাওয়ারের স্ত্রী, তথা মহারাষ্ট্রের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী, সুনেত্রা পাওয়ার ও এনসিপি সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে।



By













