নিউজ ডেস্ক: দোরগোড়ায় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। তবে তার আগেই বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজধানী ঢাকা। কী হয়েছে সেখানে? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহাম্মদ ইউনুসের বাড়ির সামনে সরকারি কর্মীদের বিক্ষোভ এবং এর জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। একাধিক বিক্ষোভকারী আহত পর্যন্ত রয়েছেন বলে খবর।
বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ মিনারের সামনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মীরা এসে জড়ো হন এবং এরপর মিছিল নিয়ে এগোতে থাকেন যমুনার দিকে। আন্দোলনকারী সরকারি কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তাঁরা এবং দ্রুত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং তা চালু করতে হবে। তাঁদের তরফ থেকে স্লোগান তোলা হয়, “পেটে ভাত নেই – কিসের উন্নয়ন হচ্ছে?”
বিক্ষোভ থামানোর লক্ষ্যে ময়দানে অজস্র পুলিশ পাঠানো হয়। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি রাস্তায় বসানো হয় ব্যারিকেডও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে তা ভাঙতে শুরু করা হয় এবং এরপরই লাঠিচার্জ করতে নামে পুলিশ। এরপর সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ পরিস্থিতি খারাপ হয়ে ওঠে যখন পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। লাঠিচার্জের রাস্তায় হাঁটে পুলিশ। এখানেই শেষ নয়, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং জল কামান পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী আবার ইউনূসের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তবে পুলিশ সেখান থেকে তাঁদের সরিয়ে দেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, “আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে যদি পুলিশের লাঠিচার্জ জারি থাকে, তাহলে ভয়ংকর হবে এর পরিণতি। আমাদের তরফ থেকে বয়কট করা হবে আসন্ন ভোট।” ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মাসুদ আলমও। তিনি বলেন, “আমরা সতর্ক রয়েছি যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে। ইতিমধ্যেই আমাদের কথা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে।” এবার দেখার বিষয় যে এর জল কতদূর গড়ায়। ভোটের আগে বীভৎস তোলপাড় হয় কিনা, এটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন।



By














