দেবজিৎ মুখার্জি: ২০২৫ সাল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো ছিল টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের জন্য। গতবছর ব্যাট হাতে তিনি তেমন দাগ কাটতে পারেননি। বলা যায়, তিনি রীতিমতো ব্যর্থ ছিলেন। চরম সমালোচনার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। অনেকে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি পর্যন্ত তুলেছিলেন। একেবারে বিশ্রী ফর্মের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন স্কাই।
তবে চলতি বছরের শুরুটা একেবারে দারুন হয় সূর্যকুমার যাদবের জন্য। তিনি নিজের পুরনো ছন্দে ফিরতে সফল হন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্য শেষ হওয়া পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অসাধারণ ব্যাটিং করেন স্কাই। পাঁচটি ম্যাচের তিনটিতে তিনি খেলেন অর্ধশতরানের ইনিংস। তাঁর ধারাবাহিকতার জন্য তাঁকে দেওয়া হয় সিরিজের সেরা পুরস্কার। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে তিনি নিজের খারাপ সময়ের কথাগুলি তুলে ধরেন এবং কিভাবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, তাও জানান।
স্কাই বলেন, “খুবই ভালো লাগছে। দীর্ঘ এক বছর ও দীর্ঘ সময় এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি স্বপ্ন দেখতাম কবে এই সময়টা আসবে।” তিনি আরো বলেন, “গতবছর আমি যেটা করেছিলাম, সেটাই করে গেছি। নিজের রুটিনে চলছিলাম। আমি জানতাম আমি আউট অফ ফর্ম নই, বরং রানের কমতি ছিল। এটা একটা দারুণ সিরিজ গেছে এবং বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে এই অনুভূতিটা খুবই স্পেশাল।”
কঠিন মুহূর্তগুলির কথা প্রসঙ্গে সূর্যকুমার যাদব বলেন, “আমার মনে হয় ১ বছর ধরে আকাশ নীল ছিল না। কিন্তু এটাই জীবন। এটাই সফরের একটা অংশ। আমি এটা মেনে নিয়ে ড্রয়িং বোর্ডে গিয়েছিলাম এবং বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে কোথায় ভুল হচ্ছিল। গত সিরিজের পর আমি ২-৩ সপ্তাহ সময় পাই, যা আমি কাটাই ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে। ওরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরে, যা আমার ফলো করা জরুরি ছিল। এটাই একটা খেলোয়াড়ের জীবন। আমি অজস্র কেরিয়ার দেখেছি, শুধু ক্রিকেটেই নয়, যেখানে খেলোয়াড়রা এমন খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, শনিবার প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ৫ উইকেটে ২৭১। সর্বোচ্চ ১০৩ রান করেন ঈশান কিষান। এছাড়া অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব করেন ৬৩। হার্দিক পান্ডিয়া ও অভিষেক শর্মার ব্যাট থেকে আসে ৪২ ও ৩০ রানের মারকুটে ইনিংস। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ২২৫ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তোলেন দলের তরুণ তারকা পেসার আর্শদ্বীপ সিং। ম্যাচ ও সিরিজের সেরা ঘোষণা করা হয় ঈশান কিশান ও সূর্যকুমার যাদবকে।



By














