দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: এসআইআরের অসমাপ্ত চূড়ান্ত তালিকাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় পথে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমানে ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং রোজ সেখান থেকে এসআইআরের পাশাপাশি একের পর এক ইস্যু তুলে গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও দলের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারা।
তবে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ৬০ লক্ষ্য বিবেচনাধীনদের মধ্যে ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে ১০ লক্ষের। অর্থাৎ বাকি রয়েছে ৫০ লক্ষ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁদেরও কি নিষ্পত্তি সম্ভব? নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন তাঁরা? এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্নের উত্তর একপ্রকার এড়িয়ে গেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। যদিও এর আগে রাজ্যের সিইও মনোজ আগারওয়ালও এই ব্যাপারে কোনও সমাধানমূলক বক্তব্য তুলে ধরেননি।
জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখার। ইতিমধ্যে শীর্ষ আদালতে তাঁদের তরফ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে রিপোর্ট। ১০ লক্ষের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে বাকি ৫০ লক্ষ নিয়ে কিছু বললেন না মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তিনি এটা জানিয়েছেন যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হোক যত দ্রুত সম্ভব।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিনে এসআইআরের অসমাপ্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং তারপর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে দরকার অনুযায়ী। এই তালিকা প্রকাশ করা হবে প্রার্থীদের মনোনয়নের আগের দিন পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে আদৌ ভোট করার অধিকার রয়েছে কিনা, তা নিয়ে দোনোমনোতেই থাকতে হবে বিবেচনাধীনদের।
যদিও রাজনৈতিক দলগুলি পুরো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন চায় না। আবার আগামী সপ্তাহে কমিশন ভোট ঘোষণা করবে। অর্থাৎ নির্বাচন দোরগোড়ায় এবং হাতে সময় নেই বলাই যায়। সবে ১০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এখনো প্রচুর বাকি। এই কম সময়ের মধ্যে বাকিদের নিষ্পত্তি কি সম্ভব? সেই প্রশ্নের এখনো উত্তর পাওয়া যায়নি। কমিশনের থেকেও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ঝোলা অবস্থায় বিবেচনাধীন ভোটারদের ভাগ্য। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়।



By










