দেবজিৎ মুখার্জি: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক আসনের বাড়তি নজর দিতে চলেছে হাত শিবির, ওরফে কংগ্রেস। এমনিতেই একা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তারা। তাই এবার পুরো শক্তি প্রয়োগ করে ভোটের ময়দানে নামবে তারা। সূত্রের বক্তব্য, এবার রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় জনসভা করতে পারেন কংগ্রেস সাংসদ, তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাহুল গান্ধী ও দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের। এখানেই শেষ নয়, সোনিয়াকন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও থাকতে পারেন। শেষ মুহূর্তে কোন বড় বদল না হলে, এটাই হওয়ার কথা।
এই ব্যাপারে মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী বলেছেন, “আমাদের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে খাড়গেজি, রাহুলজি ও প্রিয়াঙ্কাজির সফর ও সভা নিয়ে। সম্ভাব্য জনসভার কথাও হয়েছে মধ্য কলকাতা, মালদা, মুর্শিদাবাদে।” এরপর এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেন কংগ্রেস সাংসদ। তিনি বলেছেন, “আমাদের এই আশ্বাস্যও দেওয়া হয়েছে যে এবার রাজ্যে প্রচারের জন্য আসবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।”
পাশাপাশি, হাই কমান্ডের তরফ থেকেও প্রার্থী ঠিক করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের এক প্রথম সারির নেতা বলেছেন, “এক্ষেত্রে যে জিনিসটি দেখা হবে, সেটা হলো সেই ব্যক্তির জয়ের সম্ভাবনা কতটা। ভোটের আগে অন্য দল থেকে যাঁরা আমাদের দলে আসবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, বিশ্বাসযোগ্যতা ও মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, এগুলি বড় ফ্যাক্টর হবে।” দিল্লিতে দলীয় সূত্রের বক্তব্য, “হাই কমান্ড আলাদা করে ৬৫টি আসন চিহ্নিত করেছে বাংলায়। এগুলিতে সম্ভাবনা রয়েছে ভালো ফল করার। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকার ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কয়েকটি আসন রয়েছে।” হাত শিবির মনে করছে যে ভোটের দুই মাস আগে থেকে এই আসনগুলিতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে, অন্তত দশটা আসন তাদের ঝুলিতে আসবে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে কংগ্রেসের তরফ থেকে বাড়তি নজর দেওয়া হতে পারে মালদা, মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলায়। এছাড়া মালদাতে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে মৌসম নূরকে। আরো জানা গিয়েছে যে আগামী সপ্তাহে বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও হাই কমান্ডের প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে পারে সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর। এবার দেখার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।



By










