দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “দুর্ভাগ্যবশত আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি” রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তোলা অভিযোগের পাল্টা দিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের তরফ থেকে প্ল্যান অনুমোদন করা হয় এবং তাঁর কাছে প্ল্যান আসার কথাও নয়। এখানেই শেষ নয়, তিনি এই দাবিও করেন যে এই প্ল্যান সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, “বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট প্ল্যান অনুমোদন করে। দুর্ভাগ্যবশত আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি। আর আমার কাছে প্ল্যান আসার কথাও নয়। এই প্ল্যানের ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। আমার কাছে কমিশনার হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আসত।” তাঁর সংযোজন, “ওটা একটা ফর্মালিটি। টেকনিক্যাল লোকজন থাকেন মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটিতে। তা এক্তিয়ার বহির্ভূত মেয়রের। কোনটা বেআইনি, কোনটা নয়, সেটা মেয়রের দেখার এক্তিয়ার নেই। বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট কাকে নোটিস দিচ্ছে, কোনটা ভাঙছে, তা দেখার এক্তিয়ার নেই। বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশনের এক্তিয়ারও নেই।”
যদিও ফিরহাদ হাকিমের মতে, বেআইনিভাবে গুদামটি তৈরি করা হচ্ছিল না, কিন্তু যথেষ্ট তদারকির যে অভাব ছিল, সেই ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন ববি। তিনি বলেন, “খুবই ভালো হয়েছে উদ্ধারকাজ। ধন্যবাদ জানাই মুখ্যমন্ত্রীকে। উনি যা করেছেন, তা প্রশংসা করার মতো।”
প্রসঙ্গত, এদিন শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন যে কলকাতা পুরসভা অনুমোদিত গোডাউন প্ল্যানে সই রয়েছে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের। রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৃণমূল সরকার টাকা নিতে নিতে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে সিটি অফ জয় কলকাতাকে। আপনাদের পাপের ফল এটা।” প্রাক্তন শাসকদলকে একহাত নিয়ে তিনি আরো বলেন, “কোনও শিক্ষা নেননি নানা দুর্ঘটনা থেকে। এখানে সই আছে প্রাক্তন মেয়রের। ছাড়া হবে না কাউকে।”
তিনি আরো বলেছেন, “আমরা জানি না কী হয় কলকাতা পুরসভায়? সব তথ্য বেরিয়ে আসবে কালীকে ধরলেই। ও না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। ওই তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে বাইপাসের ধারে। এফআইআর হয়েছে, ব্যবস্থা নিচ্ছি।” সূত্র মারফত খবর, কালীর পুরো নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি রাজ্য সরকারের একজন কর্মচারী। তিনি মেয়র পদে থাকাকালীন ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) ছিলেন।



By










