দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: তারাতলায় বিপর্যয়ের ঘটনায় কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি সমস্ত নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এদিন বিধানসভায় তিনি বিবৃতি দেন এবং সেখানেই সরাসরি নিশানা করেন শহরের প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। এখানেই শেষ নয়, তিনি এটিও জানিয়ে দেন যে সব নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ের কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে কলকাতা, রাজারহাট-নিউ টাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সোনারপুর এবং বারুইপুর পুরসভা এলাকায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, অডিট করা হবে সব বিল্ডিং প্ল্যান এবং এর জন্য গঠন করা হবে এক বিশেষ কমিটি।
শুভেন্দু অধিকারী এই ব্যাপারে আরও বলেন, এই নতুন কমিটিতে থাকবেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, খলিল আহমেদ, রাজেশ সিনহা, রচনা ভগত, ডিজি বিল্ডিং, ডিজি ফায়ার, আইআইটি খগড়পুরের বিশেষজ্ঞ সহ আরও অনেকে। কমিটি ছাড়পত্র দিলেই তবে কাজ শুরু হবে। তবে প্ল্যানে যদি কোনও খামতি থাকে, তাহলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি জেল খাটানো হবে অভিযুক্তদের। এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও একবার পরিষ্কার করে দেন যে দুর্নীতি কোনরকমেই বরদাস্ত করবে না বিজেপি সরকার এবং এর সঙ্গে যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না।
প্রসঙ্গত, এদিন শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এও জানিয়েছেন যে কলকাতা পুরসভা অনুমোদিত গোডাউন প্ল্যানে সই রয়েছে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের। রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৃণমূল সরকার টাকা নিতে নিতে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে সিটি অফ জয় কলকাতাকে। আপনাদের পাপের ফল এটা।” প্রাক্তন শাসকদলকে একহাত নিয়ে তিনি আরো বলেন, “কোনও শিক্ষা নেননি নানা দুর্ঘটনা থেকে। এখানে সই আছে প্রাক্তন মেয়রের। ছাড়া হবে না কাউকে।”
তিনি আরো বলেছেন, “আমরা জানি না কী হয় কলকাতা পুরসভায়? সব তথ্য বেরিয়ে আসবে কালীকে ধরলেই। ও না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। ওই তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে বাইপাসের ধারে। এফআইআর হয়েছে, ব্যবস্থা নিচ্ছি।” সূত্র মারফত খবর, কালীর পুরো নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি রাজ্য সরকারের একজন কর্মচারী। তিনি মেয়র পদে থাকাকালীন ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) ছিলেন। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়।



By










