দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সোমবার বঙ্গ রাজনীতির মুখ্য আলোচনার বিষয় মুকুল রায়। রবিবার রাতে, দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর, তিনি চলে যান তারাদের দেশে। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রভাবশালী নেতা, সকলেই শোকাহত।
এই আবহে বড় মন্তব্য করে বসলেন মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে তাঁর পিতার ধারাবাহিক খোঁজ রাখা হলেও তা করা হতো না গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে। এই ব্যাপারে তিনি এটাও জানান যে তাঁর পিতার মৃত্যুর খবর জানানোর পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁজ নিয়েছেন এবং সবটা ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।
শুভ্রাংশু রায় বলেন, “বড্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন বাবা। আমার মায়ের কাছে উনি চলে গেলেন। বাবার মৃত্যুর খবর জানানোর পর নিজে ফোন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যাবতীয় সমস্ত ব্যবস্থা উনি করে দিচ্ছেন। খোঁজ নিচ্ছেন কর্মীরা। দলের বহু প্রবীণ নেতা ফোন করেছেন।” এরপরই তাঁর অভিযোগ, “বাবার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিয়ে লাগাতার ফোন করা হতো তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে। খোঁজখবর রাখতেন তাঁরা। আজ অবধি আমাকে কেউ ফোন করেনি অন্য দল থেকে। প্রথম দিকে কয়েকবার এসে খোঁজ নিয়ে গিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ। বিজেপির তরফ থেকে কেউ এখনো যোগাযোগ করেনি।”
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর মুকুল রায় বেশ অসুস্থ ছিলেন কিডনি সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় এবং এর জেরে তাঁকে মাঝেমধ্যেই ভর্তি করাতে হতো হাসপাতালে। কদিন আগে তাঁকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তবে রবিবার রাতে তিনি মারা যান সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।
তাঁর মৃত্যুর খবর জনসম্মুখে আসতেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান শাসক শিবিরের নেতা ও কর্মীরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বাড়িতে তাঁর দেহ এখনো পর্যন্ত আসেনি। সেই কাজ চলছে। তবে জানা গিয়েছে যে তাঁর কাঁচড়াপাড়ার বাড়ি থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে হালিশহর শ্মশানে, যেখানে তাঁর শেষকৃত্য হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর দেহ বিধানসভা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর।



By










