দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “আমার সচেতন সিদ্ধান্ত এটি” হঠাৎ রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা নিয়ে এমনটাই জানালেন সিভি আনন্দ বোস। কী বক্তব্য তাঁর? রবিবার তিনি সাংবাদিকদের জানান যে তিনি ভেবেচিন্তে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এটাই সঠিক সময় বিদায় জানানোর। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি এটাও জানান যে কেউ সরে দাঁড়ালে তবেই অন্যজন আসবেন।
গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ রাজ্যপাল পদ থেকে পদত্যাগ দেন সিভি আনন্দ বোস। বিষয়টি জানাজানি হতেই তুমুল হইচই পড়ে যায় বঙ্গ রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই ব্যাপারে নিজের অবস্থান জানান। তিনি দাবি করেন যে তিনি স্তম্ভিত। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো এমনও দাবি করেন যে তিনি অবাক হবেন না যদি ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপে পড়ে তিনি পদত্যাগ দেন। একই কথা দলের অন্যান্য নেতাদেরও।
শনিবার অবশ্য সিভি আনন্দ বোস নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে জানিয়েছেন যে বাংলায় তাঁর ইনিংস শেষ হতে চলেছে। তিনি লিখেছেন, “আমি ঋণী বাংলার মানুষদের কাছে স্নেহ ও শুভেচ্ছার জন্য। আমার রাজ্য কেরলম। এখানে আমি কাজ করবো বিকাশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে।” এর সঙ্গে তিনি এও পরিষ্কার করে দেন যে তিনি এই ব্যাপারে জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশে কাজ করবেন নিজের রাজ্যকে আগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
রবিবার সিভি আনন্দ বোস দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন। দমদম বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং নিজের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জানান। তিনি বলেন, “আমার সচেতন সিদ্ধান্ত এটি। সঠিক সময় এটি বিদায় দেওয়ার। আরেকজন তবেই আসবে যদি একজন যায়।” পাশাপাশি করজোড়ে প্রণাম করে এও জানান যে বাংলায় সময় কাটানো এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা।
যদিও পরবর্তী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানাননি। এবারের ভোটের লড়াই করার বা অন্য ক্ষেত্রে কাজ করার পরিকল্পনা না থাকারই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে জল্পনা টিকিয়ে রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ঠিক সময় কারণ বলবো।” রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে যা চলছে, সেই ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে চান না বলে জানান। তবে রাষ্ট্রপতির প্রশংসা করে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি খুব ভালো মানুষ এবং স্মরণীয়। বলে রাখা ভালো, রাজ্যপালের দায়িত্ব গিয়েছে, আরএন রবির কাছে, যা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ফের অশান্তি লেগেছে।



By










