দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জোট নিয়ে এমনিতেই এক সমস্যার তৈরি হয়েছে বাম শিবিরের অন্দরে, তার উপর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে ওঠে যখন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিম বৈঠক করেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। শুধু তৃণমূল, বিজেপি বা কংগ্রেস নয়, বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি দলের একাংশও। বলা ভালো, সেলিম-হুমায়ুনের বৈঠকে অস্বস্তিতে পড়েছে বাম শিবির।
এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। কী বললেন তিনি? নিজের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে জেইউপি সঙ্গে জোট নিয়ে আপত্তি রয়েছে। পাশাপাশি, সাসপেন্ডে তৃণমূল বিধায়কের অতীতের মন্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরবেন তিনি এবং খোঁচা দেন তাঁকে।
শনিবার সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “সমস্ত দলকে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসাটা আমাদের কাজ। কিন্তু এটা দেখতে হবে যে তাদের মধ্যে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানসিকতা রয়েছে কিনা।” এরপর বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেলিমের সঙ্গে আমার তিনবার কথা হয়েছে বলেছেন হুমায়ুন কবির। জানা নেই আমার। সেটা বলতে পারবেন সেলিম।”
জেইউপি প্রধানকে কটাক্ষ করে বর্ষিয়ান বাম নেতা বলেন, “হুমায়ুন কবির বলেছিলেন কেটে ভাসিয়ে দেবেন। আর কোনদিন বলবেন না বলেছেন। কিন্তু কিছু কথা আছে দরকার হয় না রোজ বলার। এক-আধবার বললেই বোঝা যায় মানসিকতা কেমন। উনি বলছেন যে ওনাকে বলতে বলা হয়েছে। তাহলে তো ন্যাকা চৈতন্য নয় এরা। কেউ বলতে বললেন আর উনি বলে দিলেন। আদায় করতে হয় সেকুলার ক্রেডেনশিয়াল। মানুষের বিশ্বাস হওয়াটা কঠিন তাদের সম্পর্কে যারা এটা প্র্যাকটিস করতে পারে না। হুমায়ুন কবির কে? উত্তর দিতে হবে তার সম্পর্কে।”
প্রসঙ্গত, বুধবার কলকাতার এক হোটেলে জোট নিয়ে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির ও মহাম্মদ সেলিম। যদিও জোট করবেন কি করবেন না, সেই ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কিছু স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের তরফ থেকে। যদিও সেলিমদের সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী হুমায়ুন কবির। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক কটা থেকে শিকার হতে হয় বামেদের। এরপরই নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে আনেন মহাম্মদ সেলিম। তিনি দাবি করেন যে সেলফি তোলা মানে ভালোবাসা নয়। অর্থাৎ সাক্ষাৎ করা মানে জোটে যাওয়া নয়। এবার দেখার বিষয় আগামীদিনে দুজনকে এক হয়ে লড়তে দেখা যায় কিনা।



By










