নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে পরাজিত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে টিম ইন্ডিয়া সেমিফাইনালে খেলতে পারবে কিনা। সেই প্রশ্নের উত্তর মেলে রবিবার। জিম্বাবয়েকে পরাজিত করার পর রবিবার ভারত পরাজিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সৌজন্যে সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস। কঠিন মুহূর্ত থেকে দলকে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ জেতান তিনি। এই ইনিংসের বিশাল প্রশংসা করেছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে প্রাক্তন তারকারা। বলা ভালো, এখন গোটা ভারতবর্ষে সঞ্জুর নামে জয়ধ্বনি চলছে।
তবে এই ম্যাচের আগে পিচ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন প্রাক্তন পাক তারকা সাকলিন মুস্তাক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) কটাক্ষ করেন তিনি। কাউন্সিলকে কটাক্ষ করে প্রাক্তন পাক তারকা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বলেন। শুধু তাই নয়, তিনি এই দাবিও করেন যে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায় যদি কন্ডিশন আপনার দলের পক্ষে হয়। তিনি বলেছেন, “আইসিসি…… ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। কেমন পিচ বানানো হয় দেখি। অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায় যদি কন্ডিশন আপনার দলের পক্ষে হয়।” যদিও সাকলিন ভারতীয় ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা করেন। তবুও অনেকে এই মন্তব্যকে ভালোভাবে নেননি। ক্রিকেট মহলের একটি বড় অংশ এটিকে ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং অপমানজনক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার ম্যাচটি খেলা হয় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে। এদিন টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুটা ভালই হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। নবম ওভারে প্রথম উইকেটটি পড়ে তাদের। বরুণ চক্রবর্তীর বলে ৩২ রানে আউট হন দলের অধিনায়ক শেহ হোপ। এরপর দ্বাদশ ওভারে পরপর দুটি উইকেট হারায় তারা। দুটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে তোলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসার জাস্পৃত বুমরাহ। ২৭ রান করে আউট হন হিটমায়ের এবং ৪০ রানে আউট হন চেজ। ১৫তম ওভারের শুরুতেই ১৪ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান শারফেন রুদারফোর্ড। শেষ পর্যন্ত ৩৪ এবং ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন রোভমান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৯৫।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হলেও পাঁচ ওভারের মধ্যেই দুটি উইকেট হারায় তারা। অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশান, দুজনেই ১০ রান করে আউট হয়ে যান। অভিষেককে আউট করেন আকিল হোসেন এবং ঈশানকে জেসন হোল্ডার। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে দলের আরেক ওপেনার সঞ্জু স্যামসন একটি বড় পার্টনারশিপ গড়েন। দলের স্কোর যখন ৯৯ তখন ১৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এরপর তিলক বর্মার সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন সঞ্জু। দুজনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের উপর আক্রমণ বাড়ায়। ১৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিলক বর্মা। হার্দিক পান্ডিয়া ১৭ রান করে আউট হন। এরপর শিবম দুবেকে নিয়ে দলকে ফিনিশ লাইন পার করান সঞ্জু স্যামসন। শেষ ওভারে প্রথম বলে ছয় এবং পরের বলে চার মেরে দলকে ম্যাচ জেতান তিনি। সঞ্জু অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে এবং দুবে নটআউট থাকেন ৮ রানে। ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় সঞ্জু স্যামসনকে।



By










