দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বর্ষীয়ান নেতা মুকুল রায়ের মৃত্যুকে ঘিরে এই মুহূর্তে দুঃখের কালো মেঘ ছেয়ে গেছে বঙ্গ রাজনীতির উপর। তাঁর অনুগামী থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা বেশ দুঃখ পেয়েছেন একসময়ের চাণক্যের তারাদের দেশে চলে যাওয়ায়। এক্স হ্যান্ডেল থেকে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একসময়ের সহযোদ্ধাকে হারিয়ে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। পাশাপাশি মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুর পাশে দাঁড়ানোরও আশ্বাস দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে। প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়।”
তিনি আরো লেখেন, “দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।” এরপরই তৃণমূল সুপ্রিমো মুকুলপুত্রের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। তাঁর বক্তব্য, “শুভ্রাংশুকে বলব, মন শক্ত করো। এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।”
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর মুকুল রায় বেশ অসুস্থ ছিলেন কিডনি সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় এবং এর জেরে তাঁকে মাঝেমধ্যেই ভর্তি করাতে হতো হাসপাতালে। কদিন আগে তাঁকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তবে রবিবার রাতে তিনি মারা যান সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।
তাঁর মৃত্যুর খবর জনসম্মুখে আসতেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান শাসক শিবিরের নেতা ও কর্মীরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বাড়িতে তাঁর দেহ এখনো পর্যন্ত আসেনি। সেই কাজ চলছে। তবে জানা গিয়েছে যে তাঁর কাঁচড়াপাড়ার বাড়ি থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে হালিশহর শ্মশানে, যেখানে তাঁর শেষকৃত্য হবে। এই মুহূর্তে তাঁর দেহ রয়েছে বিধানসভায় এবং শেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।



By










