দেবজিৎ মুখার্জি: দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরার পর যে সুযোগটা পেয়েছিলেন, তা সফলভাবে কাজে লাগান টিম ইন্ডিয়ার তারকা ক্রিকেটার ঈশান কিশান। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্য শেষ হওয়া পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে তিনি রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেন। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, দলের যা দরকার ছিল তাঁর থেকে, তা তিনি করে দেখাতে সফল হন। সিরিজের অন্তিম ম্যাচেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে রান। ৪৩ বলে ১০৩ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে সাহায্য করেন স্কোরবোর্ডে বড় রান তোলার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঈশানকেই ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় এবং সেখানে তিনি নিজের ইনিংস সহ আসন্ন ২০ ওভারের বিশ্বকাপের গুরুত্বের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তারকা ক্রিকেটার দাবি করেন যে তিনি নিজের শতরানের কথা ভাবছিলেন না। এখানেই শেষ নয়, ঈশান এটাও স্পষ্ট করে দেন যে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের ম্যাচ জেতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, এটাও জানেন যে এই মুহূর্তে তাঁর নজর আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উপর এবং এই ফর্মটা সেখানে ধরে নিয়ে যাওয়া খুব জরুরি।
ঈশান কিষাণ বলেন, “এই অ্যাপ্রোচটা আজ কাজে লেগেছে আমার। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে দলের সকলেরই এখন এই মাইন্ডসেট রয়েছে। যদিও বা আপনি মাইলস্টোনের কাছাকাছি চলে আসো, তাতেও কিছু যায় আসে না। যদি আপনি সেই মুহূর্তে সিঙ্গেল নেওয়া শুরু করেন, পরে হয়তো আপনার মনে হতে পারে যে আপনি একটা সুযোগ নষ্ট করেছেন টু গো বিগ। যদি বল আপনার মারার আয়ত্তে থাকে, তাহলে আপনাকে মারতেই হবে। নজর ম্যাচ জেতার উপর, ব্যক্তিগত রেকর্ডের উপর নয়।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রসঙ্গও টানেন ঈশান। তারকা ক্রিকেটার বলেন, “হ্যাঁ আমি ভালো করেছি এবং সেই কারণে আমি এই পুরস্কারগুলো পাচ্ছি। তবে আমার নজর রয়েছে বিশ্বকাপের উপর।” এরপরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্ব বোঝান ঈশান। তিনি বলেন, “সেখানেই বাড়তি চেষ্টা দরকার। যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো এই ফর্ম ধরে রাখা এবং সেখানে অবদান রাখতে থাকা।”
প্রসঙ্গত, শনিবার প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ৫ উইকেটে ২৭১। সর্বোচ্চ ১০৩ রান করেন ঈশান কিষান। এছাড়া অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব করেন ৬৩। হার্দিক পান্ডিয়া ও অভিষেক শর্মার ব্যাট থেকে আসে ৪২ ও ৩০ রানের মারকুটে ইনিংস। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ২২৫ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তোলেন দলের তরুণ তারকা পেসার আর্শদ্বীপ সিং। ম্যাচ ও সিরিজের সেরা ঘোষণা করা হয় ঈশান কিশান ও সূর্যকুমার যাদবকে।



By













