দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে নক্ষত্রপতন! না ফেরার দেশে একসময়ের চাণক্য মুকুল রায়। রবিবার রাতে নিউটাউনের এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর প্রয়াণ হয়। মৃত্যুর সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৭১। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস সহ সমগ্র রাজ্য রাজনীতির উপর।
পরিবার সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে গত কয়েক বছর মুকুল রায় বেশ অসুস্থ ছিলেন কিডনি সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় এবং এর জেরে তাঁকে মাঝেমধ্যেই ভর্তি করাতে হতো হাসপাতালে। কদিন আগে তাঁকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তবে রবিবার রাতে তিনি মারা যান সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।
মুকুল রায়ের মৃত্যুর খবর জনসম্মুখে আসতেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান শাসক শিবিরের নেতা ও কর্মীরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বাড়িতে তাঁর দেহ এখনো পর্যন্ত আসেনি। সেই কাজ চলছে। তবে জানা গিয়েছে যে তাঁর কাঁচড়াপাড়ার বাড়ি থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে হালিশহর শ্মশানে, যেখানে তাঁর শেষকৃত্য হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর দেহ বিধানসভায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং শেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের হয়ে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু মুকুল রায়ের এবং সেখান থেকে তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গে চলে আসেন। বিধায়ক, সাংসদ থেকে শুরু করে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। যদিও ২০১৭ সালে তিনি বিজেপির হাত ধরেছিলেন। তবে পরে ফের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করার পর, তিনি তৃণমূলে চলে আসেন।
সেই বছর তাঁর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি নানা শারীরিক অবস্থা খারাপ হয় এবং নানা সমস্যায় ভুগতে শুরু করেছিলেন। মাঝেমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হত তাঁকে। অবশেষে রবিবার তিনি তারাদের দেশে চলে যান। তাঁর মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছেন তাঁর অনুগামী থেকে শুরু করে বঙ্গ রাজনীতির অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারাও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শোকপ্রকাশ করেছেন।



By










