দেবজিৎ মুখার্জি: বিধানসভা নির্বাচনের দিকে পশ্চিমবঙ্গ। ভোটকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার প্রস্তুতি। সকল দলই নেমে পড়েছে বুদ্ধিযুদ্ধে। নিজের জেতা গড় বাঁচানোর পাশাপাশি কিভাবে অন্যের গড় নিজের দখলে করা যায়, তা নিয়ে ঘুঁটি সাজাচ্ছে সকলে। বলা ভালো, মসনদ দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দিনদিন বাড়ছে। সকলেই এখন নজর রেখেছে শাসক থেকে বিরোধী, দুই শিবিরেরই পদক্ষেপের উপর।
এই আবহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুয়সী প্রশংসা করলেন দেশের প্রাক্তন ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারু। কী বক্তব্য তাঁর? সোমবার এক সর্বভারতীয় দৈনিক সংবাদপত্রের আর্টিকেলে তিনি নিজের মতামত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা, দুটোই রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে।
সেই আর্টিকেলে তিনি লেখেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভারতবর্ষে দেখা যায়নি কোনও মহিলা প্রধানমন্ত্রীকে। সেই অভাব পূরণ করার জন্য যে গ্রহণযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দরকার, বর্তমানে তা রয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে।” কি যুক্তিতে এমনটা দাবি করেছেন বারু, তাও জানিয়ে দেন। তাঁর যুক্তি, পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে গেরুয়া শিবির এবং সেখানে যদি ইন্ডিয়া ব্লককে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মুখ হন কোনও শক্তিশালী নারী, তাহলে বিজেপির যে মহিলা ভোটব্যাংক আছে, তাতে আঘাত আনা যাবে। পাশাপাশি, তিনি এই বার্তাও তুলে ধরেছেন যে বিজেপিকে টক্কর দিতে পারছে না কংগ্রেস।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যেভাবে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আওয়াজ তুলে চলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে তিনি হয়ে উঠেছেন জাতীয় রাজ্যের অন্যতম বিজেপি বিরোধী মুখ। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে বারুর সওয়াল করা উসকে দিয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্বে নয়া সমীকরণের ফটকা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করছেন যে বারুর আর্টিকেলে যেভাবে কংগ্রেসকে অক্ষম বলা হয়েছে, তাতে বিজেপিকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রাধান্য বাড়ছে আঞ্চলিক দলগুলির। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে কি হয়। ভবিষ্যতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা যায় কিনা, তার উপরই নজর রয়েছে বাংলা সহ পুরো জাতীয় রাজনীতির।



By










