দেবজিৎ মুখার্জি: দিল্লির এআই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে যে কান্ডটি ঘটিয়েছেন যুব কংগ্রেস কর্মীরা, তার পেছনে রয়েছে বড় ষড়যন্ত্র। নেপালে যেভাবে জেন জি আন্দোলন সরকার ফেলে দিয়েছিল, তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এমনটা করেছেন তাঁরা। দিল্লির আদালতে এমনটাই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিল্লী পুলিশ। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীদের তরফ থেকে এটাও জানানো হয় যে বিক্ষোভ সংক্রান্ত সবটা খতিয়ে রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এআই সম্মেলন চলছিল। সংস্থার প্রধানদের বক্তব্য চলাকালীন হইচই হয় কক্ষের বাইরে। তা শুনে উপস্থিত সকলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং দেখেন যে কিছু ব্যক্তি জামা খুলে হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে তাঁরা হাত শিবির, অর্থাৎ কংগ্রেসের কর্মী। ধৃতরা হলেন যুব কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক কৃষ্ণ হরি, বিহার যুব কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কুন্দন যাদব, উত্তরপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অজয় কুমার, যুব কংগ্রেসের জাতীয় সহায়ক নরসিংহ যাদব।
শনিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। তাঁদের পুলিশি হেফাজতে চেয়ে প্রশ্ন করা হয় তদন্তকারীদের তরফ থেকে। তাঁদের বক্তব্য, “যে জেন জি আন্দোলন করা হয়েছিল নেপালে, তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই করা হয়েছে বড় ষড়যন্ত্র। মুখোমুখি বসিয়ে অভিযুক্তদের জেরা করা দরকার। বহু ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও জোগাড় করা দরকার। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” শুধু তাই নয়, তদন্তকারীরা এও জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া টি-শার্ট কোথা থেকে বা কেন হয়েছে, কে বা কারা আর্থিকভাবে মদত করছে বিক্ষোভের জন্য, তা সবটা দেখা হচ্ছে।
এবার দেখার বিষয় যে তদন্ত করে কি বেরিয়ে আসে। কোন প্রভাবশালী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা বা কোন বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে কিনা, এই সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে জাতীয় রাজনীতিতে। তবে ঘটনাটি যে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তা না বললেও বোঝা যায়। সেক্ষেত্রে দেখার যে এই পর্বে আগামীদিনে আর কি বেরোয়ে।



By













