দেবজিৎ মুখার্জি, নদীয়া: পশ্চিমবঙ্গে হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনের আগে মায়াপুর থেকে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কী বললেন তিনি? বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে তিনি জানালেন যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নন, চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসেবে এসেছেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি এটাও জানান যে সেখানে পা রাখতে পেরে খুশি হয়েছেন।
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্ম উৎসব উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার মায়াপুরে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রথমে সেখানে পুজো দেন এবং এরপর মঞ্চ থেকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এদিন ভিড় ছিল একেবারে দেখার মতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি বলেছেন, তা জানানোর পাশাপাশি আরো বেশ কিছু কথা বলেন।
অমিত শাহ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সকালে কথা হয়েছে মায়াপুরে আসার আগে। এখানে আসার কথা ওনাকে আমি জানিয়েছিলাম। উনি মন থেকে এখানকার সকল ভক্তদের ‘হরে কৃষ্ণ’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হলো সভার শুরুতেই। কিন্তু আজ আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আসিনি। এসেছি চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসেবে। চৈতন্যদেব সূচনা করেছিলেন ভক্তি আন্দোলনের আর তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। আজ আমি নিজেকে ধন্য ও কৃতজ্ঞ মনে করছি মহাপ্রভুর এই পুণ্যভূমিতে পা রাখতে পেরে।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে যেভাবে হরে কৃষ্ণ বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেকে চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত বলে পরিচয় দিলেন, তাতে তিনি বুদ্ধির সঙ্গে হিন্দুত্বের প্রচার করার চেষ্টা করলেন। শুধু তাই নয়, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবির ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক আবেগ তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদিন মায়াপুর থেকে সেটাই আরও শক্ত করলেন বলে মত অনেকের।
প্রসঙ্গত, অমিত শাহের এই মায়াপুর সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কী বলেছেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, “ওনাকে স্বাগত। সারা বছর আপনারা আসুন না, খুশি হব খুব। কী করে ভুলে গেলেন আমাকে? খুব ভালোবাসি আপনাদের।” বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি আরো বলেছেন, “শুধু মায়াপুর নয়, মাথা ঠেকিয়ে যান কৃষ্ণনগরের সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির সহ যত মন্দির আছে, সব জায়গায়। তবে এটা জেনে রাখুন, বাংলার সব মন্দিরের দেবতারা আশীর্বাদ করলেও পার হতে পারবেন না এবার আপনারা। সম্ভব নয় আপনাদের পক্ষে পাশ করা।”



By










