দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “নতুন কিছু নয় ডানকুনির পণ্য করিডর” কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমনের পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? তৃণমূল সুপ্রিমো দাবি করেন যে তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৯ সালে এই ঘোষণাটি করেছিলেন বাজেটে। শুধু তাই নয়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি এবং দাবি করেন যে বাংলা থেকে ভোট পাবে না বলে এমন বঞ্চনা।
রবিবার প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে বাজেট পেশ করেন নির্মলা সীতারমন। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন তিনি। কিসে কত ছাড় বা কোন ক্ষেত্রে কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, এই সংক্রান্ত যাবতীয় সবকিছু জানানো হয় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর তরফ থেকে। এখানেই শেষ নয়, একাধিক জিনিসের উপর ইমপোর্ট ডিউটি এক্সেম্পশন ঘোষণা করার পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ করছাড় ঘোষণা করেছেন। আবার কিছু জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে ইমপোর্ট ডিউটি বা ট্যাক্স রেট। এছাড়া তুলে ধরেছেন নয়া আয়কর আইনও।
এই সকল ঘোষণার মধ্যে ছিল ডানকুনির পণ্য করিডর। নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেন যে কার্গো ফ্রেট করিডর তৈরি করা হবে ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট অবধি। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “দিশাহীন এই বাজেট। এই বাজেট মহিলা, কৃষক দরিদ্র ও জনবিরোধী বাজেট। কিছু দেয়নি বাংলাকে। নতুন কিছু নয় ডানকুনির পণ্য করিডর। আমি এটি ঘোষণা করেছিলাম ২০০৯ সালের রেল বাজেটে।” বাজেটের নিন্দা করে তৃণমূল সুপ্রিমো আরো বলেন, “পুরোপুরি মিথ্যের স্তূপ। টকিং বিগ বিগ, ডুয়িং নাথিং, হাম্পটি-ডাম্পটি বাজেট।”
প্রসঙ্গত, এদিন নির্মলা সীতারমনের বাজেট বক্তৃতার শেষ হওয়ার পর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং এর বিশাল প্রশংসা করেন। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ক্ষেত্রে বা বিকশিত ভারতকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বাজেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরেন তিনি। যদিও এই বাজেট ঘোষণার পরই সেনসেক্সের সূচক ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিফটিও পড়ে যায় ৪৮১ পয়েন্ট। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য সেনসেক্স ৭০০ পয়েন্ট ফিরে পায়।



By










