দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বামফ্রন্টের সঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকীদের জোট পাকা হতেই বড় ডাক জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি মহাম্মদ সেলিমদের বামফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসার কথা বলেন। জেইউপি প্রধানের সাফ কথা, তিনি সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে জোট করতে ইচ্ছুক, কিন্তু বামফ্রন্টের সঙ্গে নয়। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি এটাও জানান যে ইতিমধ্যেই তিনি মোহাম্মদ সেলিমকে এই নিয়ে টেক্সট করেছেন।
সম্প্রতি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করায় দলের ভিতরে ও বাইরে দুদিকেই চাপে পড়তে হয়েছিল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমকে। যদিও বর্ষীয়ান বাম নেতা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন এই বিষয়ে। কিন্তু তা সত্বেও সমালোচনা থামেনি। এমনকি শরিকরাও বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সেলিমের এই পদক্ষেপে। শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন কবিরের দলের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
যদিও আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়েও দলের অন্দরে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যখন জনতা উন্নয়ন পার্টি প্রধান দেখেন বামফ্রন্ট আর আইএসএফের জোট পাকা হয়েছে, তখনই তিনি ডাক দেন সিপিএমকে বামফ্রন্ট ছেড়ে বেরোনোর। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি মহাম্মদ সেলিমকে মেসেজ করেছেন এই ব্যাপারে এবং তিনি জোট চান সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে। তবে বামফ্রন্টের সঙ্গে এক হয়ে লড়াইয়ে নামতে চান না। এবার দেখার বিষয় যে হুমায়ুনের ইশারায় সাড়া দেন কিনা সেলিম।
প্রসঙ্গত, হুমায়ুন কবির ও মহাম্মদ সেলিমের বৈঠকের বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই হইচই পড়ে যায় বঙ্গ রাজনীতিতে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, দুজনেই এর তীব্র সমালোচনা করে। বাম শিবিরের ভিতরেও চরম অশান্তি তৈরি হয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যদিও সেলিমের তরফ থেকে সবটা পরিষ্কার করে দেওয়া হয় এই ব্যাপারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও খোঁচা জারি রয়েছে।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবির সম্প্রতি জানিয়েছেন যে সেলিম যদি মুর্শিদাবাদের কোন আসন থেকে দাঁড়ান, তাহলে তিনি তাঁকে সমর্থন করবেন এবং চেষ্টা করবেন বিধায়ক করার। যদিও সিপিএম ও জেইউপির কোনও জোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই পর্যন্ত অন্তত তেমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে দেখার বিষয় যে শেষ মুহূর্তে দুই দল একসাথে ভোটের ময়দানে নেমে লড়াই করে কিনা।



By










