দেবজিৎ মুখার্জি: এই মুহূর্তে দেশের ক্রিকেটমহল সহ ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে ও মনে একটাই নাম ঘোরাফেরা করছে এবং সেটি দলের তারকা উইকেটরক্ষক ব্যাটার সঞ্জু স্যামসনের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি যেই অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন, তার প্রশংসা করেছে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। সবচেয়ে বেশি প্রশংসার বিষয় এটাই যে সঞ্জুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুদিন আগে জোর আলোচনা চলছিল। কিন্তু ফিরেই তিনি তাক লাগিয়ে দেন এবং পরপর মারকুটে ইনিংস খেলতে থাকেন।
কিন্তু কেরিয়ারের প্রথম দিন থেকে আজ অবধি যে সফর, তা একেবারেই সহজ ছিল না সঞ্জুর। এর পেছনে রয়েছে অজস্র পরিশ্রম। ১১ বছর আগে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া কিন্তু তেমন সুযোগ না পাওয়া। বা পেলেও ফের বাদ পড়া, আবার ঘুরে দাঁড়ানো, ফের থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের লড়াই ও কামব্যাক করা, সবেতেই রয়েছে সঞ্জুর ব্যাপক পরিশ্রম। একটুও হাল ছাড়েননি তিনি।
তাঁর ছোটবেলার কোচ বিজু জর্জ বলছিলেন, “ছোট থেকেই ও ভীষণ পরিশ্রমী। প্র্যাকটিসে আসতো ৩০-৪০ কিলোমিটার ট্রাভেল করে। কামাই করতো না একদিনও। যেখানে অ্যাকাডেমিতে প্র্যাকটিস করল, তখন একটা কমন জায়গা ছিল। সেখানেই স্নান করে সঞ্জু স্কুলে চলে যেত। ট্রেনিং করতো ফিরে। একটা কথা ও ছোটবেলা থেকেই খুব বিশ্বাস করতো যে কোনও বিকল্প নেই কঠিন পরিশ্রমের। সেই ফল পাচ্ছে ও। সর্বদা মিষ্টি হয় পরিশ্রমের ফল। এখনো ও একইরকম পরিশ্রম করে। ওয়ার্ক এথিক্স ব্যাপক ওর।”
সঞ্জুকে নিয়ে একটা কথা চলে যে তিনি নাকি নিজের ট্যালেন্টের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেননি। দলে রেগুলার নন। কিন্তু তা নিয়ে তাঁর মনে কোনও নেগেটিভ ভাবনা আসেনি। ছোট থেকেই ঘুড়ে দাঁড়ানোর মন্ত্র শিখেছেন। কোচের বক্তব্য, “ও ছোট থেকেই এরকম। কখনো ভেঙে পড়েনি দল থেকে বাদ পড়ায়। ও ছোট থেকেই শিখেছে, তাই কিভাবে কামব্যাক করতে হয় জানে। ওকে শুধু এটাই বলেছি যে সর্বদা সাধারণ থাকো এবং চলো মাটিতে পা রেখে। সঞ্জু নিজের ওয়ার্ক এথিক্স কখনো পাল্টায় না।” এবার দেখার বিষয় যে ফাইনালেও একই পারফর্ম করে দেখাতে পারেন কিনা সঞ্জু। কি হয় আগামীকাল, সেটাই এখন দেখার।



By











