দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটের পাশাপাশি অন্যতম আলোচনার বিষয় ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়। শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে আজ পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে দ্রুত বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে। এবার এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নিজের অবস্থান জানালেন। তবে তিনি জানান যে রায় নিয়ে কিছু বলতে চান না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখনো রায়ের কপি আমরা হাতে পাইনি। সেটা দেখতে হবে পড়ে। কিছু বলতে চাইনা আমরা রায় নিয়ে।” এরপরই কমিটির প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যে কমিটি তৈরি করার কথা বলা হয়েছে, তাতে আছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা। কোনও প্রতিনিধি নেই বাংলার। আমাদের তরফ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যসচিব। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ হবে।”
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেনশনের কথা টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আর কোনও রাজ্যে দেওয়া হয় না পেনশন। আমাদের রাজ্যে যা পাওয়া যায়, অন্য রাজ্যে তা পাওয়া যায় না।” এরপর তিনি বলেন, “আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত যদি পেনশন বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু তাঁরা কী করবেন যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভর করে থাকে?”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ডিএ মামলার রায় ঘোষণা করে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ। তাঁদের বক্তব্য, ডিএ আইনি অধিকার এবং দিতেই হবে বকেয়া ডিএ। তাঁদের তরফ থেকে জানানো হয় যে মে মাসের মধ্যে দুই দফায় মিটিয়ে দিতে হবে বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ। মার্চ মাসের শেষ দিনের মধ্যে দিতে হবে প্রথম কিস্তি এবং এরপর যা বাকি থাকবে, সেটার কত অংশ দেওয়া হবে বা দিতে হবে কতদিনের মধ্যে, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির তরফ থেকে।
এদিনের রায় প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবো যদি রাজ্য এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে রাজি না হয়।” অন্যদিকে আইনজীবী ফিরদৌস শামীমের বক্তব্য, “ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন আজ বিচারপতিরা। আদালত বলেছে ডিএ দিতে হবে। জয় হয়েছে কর্মচারীদের। গঠন করে দেওয়া হয়েছে একটি কমিটিও।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By









