দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বিপাকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী! ঘটনাটি কি? তাঁর এক মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক এবং তারপরই বালিগঞ্জ থানায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের তরফ থেকে। এখানেই শেষ নয়, নন্দীগ্রামে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে বুধবার ভবানীপুর থানায় দায়ের করা হয় এক এফআইআর।
দোলের দিন সকালে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যোগ দিয়েছিলেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বালিগঞ্জ অঞ্চলের শরৎ বোস রোডের এক অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে তিনি একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। এরপরই তার বিরোধিতা জানিয়ে ময়দানে নামে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করে অভিযোগ। বুধবারও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারী যে মন্তব্য করেছেন তা সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে যায়।
এই এফআইআরগুলি প্রসঙ্গে ডিওয়াইএফআইয়ের এক নেতার বক্তব্য, “এমন মন্তব্যের বিরোধিতা জানিয়ে মঙ্গলবারই বালিগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছিল লিখিত অভিযোগ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তাঁর বিরুদ্ধে।” দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের আরো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। তাদের সাফ কথা, সংবিধান ভাঙ্গা মেনে নেওয়া হবে না এবং টিকিয়ে রাখতে হবে দেশ ও রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য।
ঠিক কী বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী? বিরোধী দলনেতা মঙ্গলবার বলেছিলেন, “নিপাত যাক নাস্তিকতা! নিপাত যাক সেকুলারিজম। এই প্রার্থনা করব যাতে হিন্দুরা সুরক্ষিত থাকে পশ্চিমবঙ্গে।” শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রাম বিধায়ককে ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান তুলতেও দেখা যায়। এই মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক তরজা চলছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে। অনেকেই অনেকরকম কথা বলছেন গোটা বিষয়টি নিয়ে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। আগামীদিনে এর প্রভাব পড়ে কিনা বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর।



By










