দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: নামের পাশে শূন্য মুছতে মরিয়া। তাই ভোটের ময়দানে আইএসএফকে নিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন। বিমান বসু ও মহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানালেন ভাঙরের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তবে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আসন নিয়ে এখনো মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে। যদিও নওশাদ জানিয়েছেন যে বুধবার আবার বৈঠক হবে এই সমস্যার সমাধানের জন্য।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোট নিয়ে মহা সমস্যায় পড়েছে বামেরা। এই পর্যন্ত ঠিক করা হয়েছে যে হুমায়ুন কবিরের জনতা উন্নয়ন পার্টি ও কংগ্রেসের সাথে জোটে যাবে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে সিপিএমের কাছে একমাত্র রাস্তা আইএসএফ। মঙ্গলবার বিমান বসু ও মহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী। দুই দল একসাথে লড়াই করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আসন নিয়ে জারি রয়েছে মতপার্থক্য। নওশাদ সিদ্দিকী ৪৫টি আসনের নিচে নামতে চান না। তবে সিপিএম তাদের দিতে চায় ৩০টি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ফের বৈঠক হবে দু’পক্ষের আসন সামঝোতা নিয়ে বলে জানিয়েছেন নওশাদ।
তাঁর বক্তব্য, “এদিন দু’ঘণ্টারও বেশি আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার আবার বৈঠক হবে।” আসন ভাগাভাগি নিয়ে আইএসএফ বিধায়কের বক্তব্য, “আমরা একমত হতে পারিনি কয়েকটি আসনের ক্ষেত্রে। সেগুলি দিয়ে হয়েছে আলোচনা। জানানো হবে তা চূড়ান্ত হলে।” যদিও এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে শরিকরা। গত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফের সঙ্গে বামেরা জোট করে নামলেও দেখা গিয়েছিল যে বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের তরফ থেকে, যার জেরে জোটকে প্রশ্নের মুখে পড়ার পাশাপাশি ভুল বার্তা গিয়েছিল। তবে এবার সেটা যাতে না ঘটে, তার জন্য খেয়াল রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নওশাদ।
ভাঙর বিধায়ক বলেন, “২০২১ সালে বামেরা আমাদের জন্য দেগঙ্গা আসন ছেড়েছিল। তবে সেখানে প্রার্থী দিয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। এবার যাতে তেমনটা আর না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত সময় নিয়ে আলোচনা চালানো হচ্ছে।” তবে সেক্ষেত্রেও প্রশ্ন থাকছে যে সমস্যার সমাধান হবে কিনা? সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে ফরওয়ার্ড ব্লককে বারোটা আসন দিতে চেয়েছিল বামেরা। কিন্তু নরেন চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন ৩০টি। পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকীর দলের সঙ্গে জোট নিয়েও। সেক্ষেত্রে দেখার যে আইএসএফ-বাম জোট শেষমেষ কি হয়।



By










