দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের ক্ষেত্রে আরো কড়া পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম নির্দেশ মেনে তাদের তরফ থেকে চিঠি পাঠানো হলো রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশকর্তাদের। বুধবার চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও নগরপাল মনোজ ভর্মাকে এবং মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে চলতি মাসের ১৯ তারিখে শীর্ষ আদালতের দেওয়া নির্দেশগুলি।
চিঠিতে লেখা, “সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এসআইআর শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস, মহকুমা স্তরে কোনও সরকারি অফিস এবং শহরের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে। রাজ্য সরকারকে যথেষ্ট পরিমানের কর্মী দিতে হবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে যাতে তারা কমিশনের অন্যান্য কর্মীদের সহযোগিতা করতে পারে শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রে যথেষ্ট কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। রাজ্যের ডিজি, নগরপাল ও জেলাশাসকদের বাড়তি নজরদারি চালাতে হবে যাতে আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকে। নির্দেশ পালনে কোন গাফিলতি থাকলে বা শুনানি কেন্দ্রে ও এসআইআর কাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর ইস্যুতে প্রথম থেকেই আওয়াজ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে কেন্দ্রের উদ্দেশ্য এর দ্বারা এনআরসি করানো। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে একজন বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে রাজধানীতে আন্দোলন হবে। সংসদেও দলীয় সাংসদরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি এবং পাল্টা অভিযোগের আঙুল তোলে ঘাসফুল শিবিরের দিকে। যদিও শেষ পর্যন্ত বাংলায় এসআইআর শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে তুঙ্গে পৌঁছেছে। একে অপরকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছে তৃণমূল ও বিজেপি। দুজনেই আশাবাদী যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয় তাদের দলেরই হবে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়।



By










