দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: শনিবার, ৯ মে, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো গোটা বাংলা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ দলের একাধিক প্রভাবশালীর উপস্থিতিতে পথচলা শুরু হলো বিজেপি সরকারের। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিসভার আরও পাঁচজন – দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। এদিন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল একেবারে দেখার মতো।
তবে এদিনের অনুষ্ঠানে গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে স্মরণ করা হয় অতীতে রাজ্যে নিহত দলীয় কর্মীদের। বিশেষভাবে সেই মৃত কর্মীদের স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজের বক্তব্যে তিনি সাহসী দলীয় কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান। শুধু তাই নয়, তাঁদের আত্মত্যাগ কী অবদান রেখেছে দলের যাত্রাপথে, তাও তিনি তুলে ধরেন এবং প্রশংসা করেন তাঁদের সাহসের।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “শ্রদ্ধার্ঘ্য সাহসী বিজেপি কর্মীদের প্রতি! বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের উদযাপনের মধ্যেও সেই সমস্ত বিজেপি কর্মীদের আমরা স্মরণ করছি, যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন নিজেদের চেয়েও বৃহত্তর এক আদর্শের সেবায়।” তিনি আরও বলেন, “দলের যাত্রাপথে তাঁদের আত্মত্যাগ সারাজীবন অমলিন হয়ে থাকবে। তাঁদের সাহস উৎস হয়ে থাকবে আমাদের সকলের শক্তির।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By









