দেবজিৎ মুখার্জি, পশ্চিম বর্ধমান: দুর্গাপুরের ‘কমল মেলা’য় আমন্ত্রণ পেয়ে করা গেল না পারফর্ম। ফিরে আসতে হল অনুষ্ঠান বাতিল করে। এমন হেনস্তার অভিযোগ তোলা হলো জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘পাঁচফোড়ন’এর তরফ থেকে। নাম না করে ফেসবুক লাইভে তারা আক্রমণ করে গেরুয়া শিবিরকে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়ার চেষ্টা করা হলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বিজেপি নেতা-বিধায়কদের তরফ থেকে।
বুধবার নামকরা ব্যান্ড ‘পাঁচফোড়ন’এর পারফর্ম করার কথা ছিল রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে কমল মেলার মঞ্চে। অভিযোগ, ঠিক সময়ে পৌঁছানো সত্বেও তাদের উঠতে দেওয়া হয়নি মঞ্চে। এখানেই শেষ নয়, তাদের গ্রিনরুমেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি, এমনকি চা-জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি শিল্পীদেরও বলে অভিযোগ। অবশেষে রাত দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে আসতে বাধ্য হয় তারা।
এরপরই ফেসবুক থেকে লাইভ হয়ে উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেন ব্যান্ডের প্রধান গায়িকা অমৃতা মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল আমাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানের জন্য। অ্যাডভান্স পেমেন্ট করেননি। বুধবার সকালে আমাদের ফোনে বলা হয় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান করার জন্য। নির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও আমরা রাজি হই।” অভিযোগ, অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠার পর থেকেই হেনস্তা শুরু হয়। সাড়ে ৬টা নাগাদ এলেও গ্রিনরুমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গাড়িতেই বসেছিলেন সকলে। এমনকি উদ্যোক্তারা জানতেনও না যে আজ তাঁদের পারফর্ম করার কথা। অমৃতার আরও বক্তব্য, “আমরা যদি আগে জানতাম এটা রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান, তাহলে আসতাম না। আমরা অপমানিত ও অসম্মানিত। তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে।”
দলের আরেক সদস্য নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “অভিযোগ করবো পুলিশে। আমার আবেদন ভবিষ্যতে যেন বাংলার কোনও শিল্পী এমন মেলায় যেন না অংশ নেন। এই দলটা বোঝেনা বাংলার সংস্কৃতির আবেগ। সম্মান করতে পারে না শিল্পীদের। কি করে চালাবে এরা দেশ?” প্রায় চার ঘন্টা অপেক্ষার পর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় তাঁরা।
এই ঘটনাকে ঘিরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। মেলার দায়িত্বে থাকা দলের জেলা সহ-সভাপতি মনীষা শিকদারের বক্তব্য, “আমি শুধু মেলার সংস্কৃতি কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছি ওই ব্যান্ডের। তারপর আর আমার কিছু জানা নেই। এটা লজ্জাজনক। আমি ওদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছি।” আহ্বায়ক কুন্দন সাউ সবটা শুনে ফোন কেটে দেন “মিটিংয়ে আছি” বলে। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই অবশ্য দাবি করেছেন যে এই ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। দুর্গাপুরের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী রণজিৎ গুহর মতে অন্যায় করেছেন উদ্যোক্তারা।



By










