দেবজিৎ মুখার্জি: ভোটের হাওয়া বইছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। আর কদিন পরই রাজ্যবাসী নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে রাস্তায় নামবেন। সুতরাং এখন থেকেই যে প্রার্থী বাঁচাই নিয়ে শাসক থেকে বিরোধী, দুই শিবিরই মাথা লাগাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। এই ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে গেছে গেরুয়া শিবির। অনেকটাই এগিয়েছে তালিকা তৈরির কাজ। দলীয় সূত্রের খবর, প্রায় ১৪০টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম কমবেশি চূড়ান্ত হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে তাঁর উপস্থিতিতে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মতামতকে। বুথ থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত কাজ করা নেতা-কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যাঁদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এবং জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় চমক হিসেবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মহিলা ও তরুণ মুখের।
পাশাপাশি, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে কাদের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হতে পারে, তাও জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাঁড়াতে পারেন খড়গপুর কেন্দ্র থেকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফের দাঁড়াতে পারেন নন্দীগ্রাম থেকে, আসানসোল দক্ষিণের পরদের টিকিটে লড়তে পারেন অগ্নিমিত্রা পাল, কাঁথি থেকে প্রার্থী হয়ে দাঁড়াতে পারেন দিব্যেন্দু অধিকারী। এখন যাঁরা দলের বিধায়ক আছেন, তাঁদের সিংহভাগই টিকিট পেতে পারেন। কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন।
দলীয় সূত্রের খবর, প্রার্থী নিয়ে একমত প্রায় ১৪০টি আসনে এবং বাকি ১৫৪টি নিয়ে আরো বৈঠক করা হবে কমিটির তরফ থেকে। বুধবার থেকে আলোচনা চলছে প্রার্থী বাঁছাই নিয়ে। জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকের আগে দলের কোর কমিটির বৈঠক হয় জেপি নাড্ডার বাড়িতেও। সেখানে প্রাথমিক আলোচনা হয় প্রার্থী তালিকার খসড়া নিয়ে।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, “তালিকা ইমমেটিরিয়াল। পদ্ম উপরে, নরেন্দ্র মোদির নিচে।” শুভেন্দু অধিকারীর এমন মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন যে শমীক ভট্টাচার্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সেকেন্ডারি করে দেখাতে চাইছেন বিষয়টি। তবে দলীয় সূত্রের তরফ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দেওয়া হবে এবং সেই কারণেই লাস্ট মিনিট প্রেপ্যারেশন ও ইকুয়েশন মেলানোর কাজ করছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। এবার দেখার আগে কি হয়।



By










