দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বেলডাঙা অশান্তি নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সবরকম পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হলো এসপি এবং ডিএমকে। এখানেই শেষ নয়, আদালতের তরফ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। যদিও এর সঙ্গে এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে এনআইএ তদন্তের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।
ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে গত শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেই অঞ্চল। পথ অবরোধ থেকে শুরু করে ট্রেন অবরোধ ও ভাঙচুর, একাধিক ঘটনা ঘটে। এমনকি এক সাংবাদিক পর্যন্ত আহত হন। শনিবারেও একই ঘটনা ঘটে। এরপর মাঠে নামে পুলিশ এবং একাধিক গ্রেফতারি করে, যাঁর মধ্যে রয়েছেন এক মিম নেতাও। বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে। দায়ের করা হয়েছে দুটি মামলা – একটি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মামলা এবং আরেকটি এনআইএ তদন্ত চেয়ে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দুটি মামলারই শুনানি হয়। এদিন আদালতের তরফ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের বক্তব্য, বিপরীতে আচরণ করছে রাজ্য ও কেন্দ্র ফোর্স ব্যবহার নিয়ে। যেভাবে মুর্শিদাবাদে লাগাতার হিংসার ঘটনা ঘটছে, তাতে কোর্ট চিন্তিত। প্রধান বিচারপতি এও জানান যে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি নিয়েও চিন্তায় আদালত।
উল্লেখ্য, হেমন্ত সোরেনের ঝাড়খন্ডে যে সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তিনি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ। খবর পৌছাতেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর নেমে আসে শোকের ছায়া। গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ পাওয়া গিয়েছে তাঁর ঘর থেকে। যদিও বাড়ির লোকেদের অভিযোগ, আলাউদ্দিন আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে ঘটনাকে ঘিরে একেবারে যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা বেলডাঙা। প্রতিবাদ জানাতে রেললাইন ও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি জ্বালানো হয় টায়ারও। গোটা অঞ্চলে রীতিমতো তোলপাড় চলে। যদিও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ উগড়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।



By










