দেবজিৎ মুখার্জি: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় এবার এল নতুন মোড়! কী সেই মোড়? এএআইবির প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে যেই বিমানবন্দরে তাঁর বিমান নেমেছিল, সেখানে ছিল বড়সড় খামতি। সেখানেই নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে যাবতীয় সব নিয়ম মানা হয়নি।”
গত ২৮ জানুয়ারি বারামতি যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাণ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। পরের দিন সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্লেনের ব্ল্যাক বক্স। এএআইবির তরফ থেকে শুরু করা হয় তদন্ত। কয়েকদিন আগে এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে যে বিমানে যে দুটি ফ্লাইট রেকর্ডার ছিল – ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার – দুটোরই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তা উদ্ধার করে দেওয়া হয় এএআইবিকে।
সবটা দেখে এএআইবির তরফ থেকে প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘এমারজেন্সি ল্যান্ডিং’এর সময়ে মাত্র তিন কিলোমিটার ভিজিবিলিটি ছিল, যা অনেকটাই নিচে নির্ধারিত প্যারামিটারের থেকে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে পাইলটদের ‘ও শিট ও শিট’ বলতে শোনা গেছে দুর্ঘটনার ঠিক আগে। সিভিআরের ডেটা কিছুটা ক্ষতি হয়েছে হিট ড্যামেজের কারণে এবং সেই কারণে ঠিকঠাক কারণ জানা যাচ্ছে না দুর্ঘটনার। ডিজিসিএকে রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে বারামতির মতো এয়ারফিল্ডগুলিতে এবং আরো উন্নত করতে হবে ল্যান্ডিং এডস ও মেটেরিওলজিক্যাল সার্ভিসেসকে যেখানে ভিআইপি বা চার্টার্ড ফ্লাইট বেশি আসা-যাওয়া করে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি একটি সভায় যোগ দিতে মুম্বাই থেকে বারামতির দিকে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার নিজস্ব বিমান করে। গন্তব্যস্থানে পৌঁছে ঘটে দুর্ঘটনা। এমারজেন্সি ল্যান্ডিং করতে গিয়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি। গুরুতর আহত অজিতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনাকে ঘিরে নেমে আসে শোকের ছায়া। দেশের সকল রাজনীতিবিদ বেশ দুঃখ পেয়েছেন এই ঘটনায়। তবে অনেকে আবার এর মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখছিলেন। যদিও কাকা শরদ পাওয়ার দাবি করেছেন যে এটি একটি দুর্ঘটনা এবং এর পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফরণবিস, অজিত পাওয়ারের স্ত্রী, তথা মহারাষ্ট্রের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী, সুনেত্রা পাওয়ার ও এনসিপি সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে আজও একাধিক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে।



By













