দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে একজোট হয়ে লড়তে ইচ্ছুক বামেরা। তবে দ্রুত জোট করার আহ্বান জানিয়ে হাত শিবিরকে প্রতিনিয়ত আক্রমণ করে চলেছে তারা। এবার নাম না করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমকে পাল্টা দেওয়া হল কংগ্রেসের তরফ থেকে। বর্ষিয়ান বাম নেতাকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যেন তিনি অযথা মাথা ঘামানো বন্ধ করেন। শুধু তাই নয়, এটাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে নিজেদের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নিজেই নেবে এবং সঠিক সময়ে নেবে।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য একটি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, “কংগ্রেস নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে। অন্য কেউ নয়। আমরা দায়বদ্ধ মানুষের কাছে। আঞ্চলিক দল নই আমরা। অহেতুক মাথা ঘামানো বন্ধ করুন জেলা, প্রদেশ, দিল্লি, কেরল নিয়ে।” ইতিহাসে প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, “রক্তঝরানো ইতিহাসে লেখা আছে আমাদের জোটবদ্ধ লড়াই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। পোস্টারে বা দেওয়াল লিখনে নয়। প্রকৃত অর্থেই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে আমাদের দল বিশ্বাসী। বাস্তবিক অর্থে আমরা প্রয়োগ করে দেখাই থিসিস, অ্যান্টিথিসিস থেকে সিন্থেসিস।”
প্রসঙ্গত, মালদা রথবাড়ি মোড়ের সভা থেকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিম কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেছিলেন, “এমনি এমনি বামফ্রন্ট যায়নি। ২০১১ সালে এই কংগ্রেস নিজের কাঁধ দিল। তার উপর ভর করে রাইটার্সে উঠলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও তারপর রাইটার্স ত্যাগ করলেন। বিজেপিকেও তৃণমূল ত্যাগ করল।” এরপরই সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “এখনো যদি শিক্ষা না হয় কংগ্রেসের, তাহলে কবে হবে আমার জানা নেই।”
তিনি আরো বলেছিলেন, “পুরনো তৃণমূলদেরও একই অবস্থা। যে কিষেনজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁকেই পরে হত্যা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদা জেলা কংগ্রেসকে বলছি, বামেরা জানপ্রাণ দিয়ে খেটেছিল বলেই গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এখানে একটি আসন পেয়েছে। এখন প্রদেশ কংগ্রেস ও দিল্লির কোনও নেতা চিন্তা করছেন যে কোনদিকে গেলে লাভ আছে।” এরপরই নীতি ঠিক করার পরামর্শ দিয়ে সেলিম বলেন, “বাংলাকে বাঁচাতে হলে লড়তে হবে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কিন্তু ওরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জেলা ভাবছে রাজ্য কি করবে, আবার রাজ্য ভাবছে দিল্লি কি করবে।”



By










