দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ক্রমাগত চাপ বাড়ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শনিবার সাতসকালে তাঁর কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় শালবনি থানার পুলিশের তরফ থেকে। এই অভিযান তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজেই বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। শোরগোল পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতেও।
শালবানির এক তৃণমূল নেতার অভিযোগ, সুমিত রায় বিশাল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে শালবনি থানার পুলিশ এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন অ্যানালিসিস করে কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ঠিকানা উঠে আসে তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে। এরপরই ডিএসপির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী কলকাতায় রাত আড়াইটে নাগাদ পৌঁছয়। প্রথমে কালীঘাট থানায় দরকারি আইনি কাজ শেষ করা হয়। এরপর ভোর ৩টে নাগাদ ডায়মন্ড হারবার সাংসদের বাড়িতে গিয়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। অভিযোগ, অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও যখন ভেতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি, তখন তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা।
বাড়ির বাইরে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রায় ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সুমিত রায়ের খোঁজ মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে। সকাল ৭টার কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসে পুলিশবাহিনী। তবে এখনো তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত সুমিত রায়ের সম্ভাব্য অন্যান্য ঠিকানাতেও চালানো হতে পারে তল্লাশি বলে খবর। অভিষেকের বক্তব্য, “ওরা গোটা বাড়ি তল্লাশি করেছে তালা ভেঙে ঢুকে। সব রেকর্ড রয়েছে। সহযোগিতা করেছি তদন্তে।”
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সেখানে পৌছান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, তিনি সরাসরি বাড়ির ভিতরে গিয়ে অনেকক্ষণ কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে। যদি কি ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। বেশ খানিকক্ষণ থাকার পর সেখান থেকে বেরোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়।



By










