হাফিজুর রহমান, কলকাতা: তৃণমূল রাজনীতির রাস্তা বড্ডো বিচিত্র, কখন কোনদিকে বাঁক নেবে বলা অসম্ভব। এই জন্য বোধহয় বলা হয় politics makes strange bedfellows.. দস্যু রত্নাকরের কাহিনী আরেকবার মনে করিয়ে দিই, এটি কিভাবে এখনও প্রাসঙ্গিক সেটা বোঝা যবে।
দস্যু রত্নাকর যখন তার পাপের ভাগ নিতে সবাইকে অনুরোধ করে তখন তার প্রিয়জনরাও তার পাপের ভাগ নিতে রাজি হয়নি। মনের দুঃখে কিভাবে দস্যু রত্নাকর বাল্মীকি হন সেটা আমরা জানি। টিএমসি বাধ্য হয়েছে কংগ্রেসের শরন নিতে, সোনিয়া-রাহুলের পেছনে ঘুরছে। নাহলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু লাখ টাকার প্রশ্ন হচ্ছে কংগ্রেস কি তৃণমূলের পাপের বোঝা বইবে?
তৃণমূল নির্বাচনের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। এর পেছনে SIRএর হাত থাকলেও তোলাবাজি, কাটমানি খাওয়ার ব্যাপার, জনগণের সঙ্গে বিচ্ছেদ, আইপ্যাকের বাড়াবাড়ি, একাধিক ফাক্টর কাজ করছে পতনের পথ মসৃণ করতে। মমতার ইচ্ছে ছিল ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার, কিন্তু চালে ভুল ছিল। প্রথমে নীতীশের বদলে দলিত চেহারা খারগেকে সামনে অন্যায় প্রস্তাবে ব্যথিত নীতিশ বাধ্য হয় এনডি এতে যোগ দিতে, যার ফলে শোষক দল মনের আনন্দে কম সিট থাকা সত্তেও ছড়ি ঘোরাচ্ছে। মমতা রাহুলকে নেতা হিসেবে মানতে চায়নি তাই একের পর এক ইন্ডিয়ার ডাকা মিটিংয়ে অনুপস্থিত থেকেছে, ভাইপো অভিষেক কালেভদ্রে গেছে, ডেরেক ও’ব্রায়েন মমতার সাবষ্টিটিউট নয়, এটা সবাই বোঝে। এখানেই শেষ নয়, গুরত্বপূর্ণ বিল পাস হওয়ার সময় টিএমসির সদস্যরা গরহাজির হয়ে কেন্দ্রীয় শোষক দলের সুবিধা করে দিয়েছে বারবার। এভাবেই নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে টিএমসির সুপ্রিম নেত্রী।
কংগ্রেস মমতাকে ডাকেনি। বরং মমতাই নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কংগ্রেসের শরন নিতে বাধ্য হয়েছে। ৯৮এ কংগ্রেস ছেড়ে আসা মমতার ভাগ্য স্থির হবে আজ মিটিংয়ের পর। দেখা যাকে মমতা। বৃত্ত সম্পূর্ণ করে কিনা! সবটাই নির্ভর করছে আজকের মিটিংয়ের উপর। কংগ্রেসের এডভান্টেজ হল তৃণমূল ফিরলে লোকসভা, রাজ্যসভায় বেশ কিচ্ছুআসন বাড়বে। মমতা পাবে কংগ্রেসের নিরাপদ আশ্রয়ে।
দেখা যাকে কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।
সত্যি কংগ্রেসের হাত ধরছে?



By










