দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন আর শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই সীমিত নয়। এবার এর আঁচ একপ্রকার পড়ল জাতীয় রাজনীতিতেও। একদিকে যখন দিল্লিতে গান্ধী পরিবারের সাথে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখন অন্যদিকে দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন এনডিএর অংশ হতে চেয়ে। অর্থাৎ বিধানসভার পরিষদীয় দলের পাশাপাশি হাতছাড়া হলো লোকসভাতে সংসদীয় দলও।
সংসদীয় দলেও ভাঙন হওয়ার পথে, এমন আবহে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নিতে রবিবার রাজধানীতে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বৈঠকে তাঁরা যোগ দেন এবং সেখানে দেখা যায় এক আলাদা দৃশ্য। বৈঠকের শুরুতেই সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দুজনকে একসাথে একেবারে পাশাপাশি বসতে দেখা যায়। ঠিক তখন অন্যদিকে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সংসদীয় দল। অর্থাৎ, যা পরিস্থিতি তাতে বলাই যায় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটে এবং তৃণমূল কংগ্রেস এনডিএতে।
এনডিএর অংশ হতে চেয়ে সই করলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসত), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), শতাব্দী রায় (বীরভূম), অসিত মাল (বোলপুর), বাপি হালদার (মথুরাপুর), জুন মালিয়া (মেদিনীপুর), জগদীশ বাসুনিয়া (কোচবিহার), কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম), অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), পার্থ ভৌমিক (বারাকপুর), শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব), ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর), দেব (ঘাটাল), আবু তাহের (মুর্শিদাবাদ), খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি) সহ আরো অনেকে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কীর্তি আজাদ এবং সায়নী ঘোষ। বিদ্রোহী সাংসদদের বক্তব্য, আরও বাড়তে পারে তাঁদের সংখ্যা। সেক্ষেত্রে আগামিদিনে জটিলতা তৈরি হতে পারে এই বিষয়ে যে কার দখলে থাকবে তৃণমূলের প্রতীক।



By










